কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫২) হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনতার হাতে আটক হেলালের জবানবন্দিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেনের নাম এসেছে। এ ছাড়া পুলিশের হাতে আটক তিন আসামি মোকাররমের স্বজনদের বাড়িতে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ ওঠার পরও তিনি সংগঠনের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। বরং আত্মগোপনে আছেন। এ কারণে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।’
এর আগে রবিবার কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোকাররম হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মোকাররম হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলমের ওপর চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলালকে (২৪) আটক করেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মোকাররম হোসেনের নাম উল্লেখ করেন। এর পর থেকেই মোকাররম আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ওই রাতেই মো. হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া পুলিশ অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩২) ও একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাহিন আলমকে (২৭) গ্রেফতার করে। শনিবার নিহত জাহিদুলের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় গ্রেফতার তিন সন্দেহভাজন ভাড়াটে খুনিসহ পাঁচ জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক সঙ্গীতা ভট্টাচার্য্যের আদালতে তাদের হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে নেওয়া পাঁচ আসামি হলেন- বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২), একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) ও একই উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)। শেষের দুজনকে হত্যাকারীদের স্পিডবোটে পালিয়ে যাওয়ার সহায়তা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।









