গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে মারধর, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির ঘটনায় এক কৃষক দল নেতা এবং জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম মামলার বিষয়টি জানান।
ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া (৪০) গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামানের নির্দেশে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে মামলাটি নথিভুক্ত করে শ্রীপুর থানা পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন- শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার জামায়াতের কর্মী মাহতাব উদ্দিন এবং একই এলাকার বাসিন্দা শ্রীপুর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন প্রধান।
ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া একই এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম মিয়ার ছেলে। তিনি বাড়িঘর নির্মাণের কন্ট্রাক নিয়ে রাজমিস্ত্রিদের দিয়ে কাজ করিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
সোহেল মিয়ার অভিযোগ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা সোহেল মিয়ার কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ১৮ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেড়াইদেরচালা এলাকার প্রাইমস্টার স্কুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সোহেল। এ সময় আসামিরা ওই স্কুলের সামনে সোহেলের পথরোধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় সোহেলকে প্রকাশ্যে মারধর করেন। মারধর শেষে তার পকেট থেকে ঠিকাদারি কাজের নগদ এক লাখ টাকা এবং একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেন আসামিরা।
এ ব্যাপারে জামায়াতের শ্রীপুর পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, ‘মাহতাব উদ্দিন জামায়াতের কর্মী। এটা দলীয় কোনও বিষয় নয়। চাঁদাবাজির মামলা হতে পারে। তবে ঘটনার সত্যতা আছে বলে আমার মনে হয় না।’
গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কোনও ব্যক্তির অন্যায়ের দায় দল নেবে না। দল কখনও কোনও অন্যায়কে সমর্থন করে না। অন্যায় করলে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার দল সেই তা ব্যবস্থা নেবে। তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই নেতার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









