নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় বুধবার সকালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, বন্যাকবলিত এলাকাটিতে এত বিপুলসংখ্যক পর্যটক কেন গিয়েছিলেন? এর কারণ তুলে ধরে বিবিসি বলছে, ওই অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চভূমির হ্রদ ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে এত পর্যটক অবস্থান করছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দুটি উচ্চভূমির হ্রদ রয়েছে। একটি তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর এবং অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে উভয় হ্রদই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।
প্রতি বছর কয়েক হাজার পর্যটক নেপাল হয়ে মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বছরের এই সময়টিতে বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকদের মানস সরোবর ভ্রমণের প্রবণতা বেশি থাকে। একই সময়ে অনেকে পবিত্র গোসাইকুণ্ড হ্রদে স্নান করতেও যান।
অ্যালপাইন কৈলাশ ট্রেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ পণ্ডিত বলেন, এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ভ্রমণপথ। এ সময় পর্যটকেরা এই পথে যাত্রা করেন, কারণ পূর্ণিমা দেখা যায়। ধর্মীয়ভাবে পূর্ণিমাকে শুভ বলে মনে করা হয়।
এদিকে নেপালে আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। নেপাল পুলিশ ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। বন্যার কয়েক ঘণ্টা পর প্রায় ৪০৩ জন পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
নেপালের উদ্ধারকারীরা কাদামাটির নিচে চাপা পড়া জীবিত মানুষ ও মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন। পাশাপাশি বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।









