বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব করতে নয়: শিশুটির বাবা

গাজীপুর প্রতিনিধি
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৫

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাওয়াই ছিল মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য। সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা কোনও স্থাপনা দখলের পরিকল্পনা তার ছিল না। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিশুটির বাবা নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। পাশাপাশি মেয়ের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সন্তানকে ঘিরে এমন অভিযোগ ওঠার পর একজন বাবা হিসেবে বিচার চাওয়াই তার স্বাভাবিক পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে জনতাকে উসকে দেওয়া এবং ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিশুটির বাবা জানান, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। গ্লাসটির ক্ষতিপূরণ দিতেও সম্মত হয়েছেন বলে জানান এই অভিভাবক।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, ফুটেজ যাচাই করলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি মাদ্রাসায় এতো পরিমাণ অর্থ রাখার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।

শিশুটির বাবা বলেন, মেয়েকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি মাদ্রাসাটিতে ভর্তি করেছিলেন। তাই পুরো প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তার কোনও অবস্থান নেই। তবে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন।

তার ভাষ্য, ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে কিংবা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রকৃত আলেমদের সঙ্গে অপরাধের অভিযোগকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে আগেই অবহিত করেছিলেন বলে দাবি করেছেন শিশুটির বাবা। তার অভিযোগ, তিন দিন আগে বিষয়টি জানানোর পরও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওই অভিভাবক। তার মতে, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল।

নিজের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার প্রসঙ্গে শিশুটির বাবা বলেন, তিনি আইনকে শ্রদ্ধা করেন এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চান। তার আহ্বান, ঘটনার সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে শিশুটির নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাই এগিয়ে আসবেন।

এদিকে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, দুই পক্ষই মৌখিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শিশুটির প্রতি নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ দুই ক্ষেত্রেই তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

/আরএইচ/
সম্পর্কিত
মেয়ের বিচার চাইতে গিয়ে নিজের বিরুদ্ধেই মামলা, যা বললেন রুমি
মাদ্রাসায় বলাৎকার-ধর্ষণ বন্ধে আলেম সমাজ কেন সোচ্চার হতে পারেন না, প্রশ্ন আসিফ নজরুলের
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়, ভিডিও ভাইরাল
সর্বশেষ খবর
মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান
মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান
‘রাজীব ছিলেন খুব সুদর্শন’, প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি জানালেন সোনিয়া
‘রাজীব ছিলেন খুব সুদর্শন’, প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি জানালেন সোনিয়া
বিলুপ্তির ঝুঁকিতে অগভীর পানির প্রবাল প্রাচীর
বিলুপ্তির ঝুঁকিতে অগভীর পানির প্রবাল প্রাচীর
বেতন বাড়ছে, মান কমছে: আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে থেকে কী শেখার আছে বাংলাদেশের?
বেতন বাড়ছে, মান কমছে: আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে থেকে কী শেখার আছে বাংলাদেশের?
সর্বাধিক পঠিত
প্রকৌশল ডিগ্রি ছাড়াই উড়ন্ত গাড়ি বানালেন তরুণ
প্রকৌশল ডিগ্রি ছাড়াই উড়ন্ত গাড়ি বানালেন তরুণ
১১ জেলের কাছ থেকে উদ্ধার ৬০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ
১১ জেলের কাছ থেকে উদ্ধার ৬০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ
আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের নারী শ্রমিকরা
আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের নারী শ্রমিকরা
ব্যস্ত ঢাকায় পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরির নতুন ঠিকানা, টিকিট ১০ টাকা
ব্যস্ত ঢাকায় পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরির নতুন ঠিকানা, টিকিট ১০ টাকা
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে এক উপজেলায় মাইকিং
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে এক উপজেলায় মাইকিং