স্বজনদের ভালোবাসায় সিক্ত হলো সাভারের রানা প্লাজার সামনে নিহতদের স্মরণে নির্মিত শহীদ বেদি। ভবন ধসের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকেই রানা প্লাজার সামনে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক, ভবন ধসে আহত, নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজনরা জড়ো হতে থাকেন। একে একে শহীদ বেদির সামনে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভবন ধসে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তারা।
এসময় তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি, বাংলাদেশ এন্ট্রি ফায়ার অ্যান্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে নিহতদের স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। সবার চোখে মুখে ছিল রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির জন্য দৃঢ় শপথ ও ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণার দাবি।
এদিকে, রবিবার সকালে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি কালো ব্যাজ ধারণ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে শ্রমিকরা রানা প্লাজার সামনে মালিক সোহেল রানার ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের স্বজনরা জানান, ভবন ধসের তিন বছর পার হয়ে গেছে। এখনও নিহত শ্রমিকদের অনেক স্বজন ও আহত শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পায়নি। ফলে অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে না পারায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি আহত শ্রমিক। প্রকাশ করা হয়নি নিখোঁজদের সঠিক তালিকা।
অন্যদিকে, রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্তিতে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান রানা প্লাজায় নিহত, আহত, নিখোঁজ শ্রমিকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্থদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
আরও পড়ুন:
আশুলিয়ায় গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী আটক
/বিটি/টিএন/আপ-এআর/








