দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বিদ্যুতের অভাবে কাজের গতি হারিয়ে ফেলছে স্থলবন্দর বেনাপোল। বিরামহীন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার কাস্টমস হাউস, বন্দর, চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন, আবাসিক এলাকা, থানা, পাঁচ শতাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটসহ ব্যবসায়ী সংগঠন।
এই স্থলবন্দরে প্রতিদিন লোড-আনলোড হয় চার থেকে পাঁচ শ’ ট্রাক পণ্য। এসব পণ্য খালাসের জন্য জমা হয় প্রায় দুই থেকে আড়াই শ’ বিল অব এন্ট্রি। এগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। বিদ্যুত বিভ্রাটের কারণে কম্পিউটার বিভাগ অচল হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন আমদানি রফতানি সংক্রান্ত বিষয়ে ১০ হাজারেরও বেশি কাগজপত্র ফটোকপি করতে হয়। ফলে আমদানি-রফতানি যেমন ব্যহত হচ্ছে তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ব্যবসায়িরা মনে করেন বন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে শুধু আমদানি-রফতানি কার্যক্রমই ব্যহত হবে না, এর নেতিবাচক প্রভাব গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপরও পড়বে। আগে মাঝে মধ্যে লোডশেডিং হলেও এখন ভোর থেকে শুরু হচ্ছে লোডশেডিং।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর হিসাব অনুযায়ী বেনাপোল বন্দর সাব-স্টেশনের দৈনন্দিন চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৬ মেগাওয়াট। তাই দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ দিতে পারছে না পল্লীবিদ্যুৎ। এ অবস্থা মোকাবেলার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটি ও কাস্টমসের তিনটি জেনারেটর ব্যবহৃত হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের ২টি জেনারেটরে ৪৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। তবে এই বিদ্যুৎ দিনের বেলা ব্যবহৃত হয় না। শুধু রাতে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে দিনের অনেক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।
আরও পড়তে পারেন : পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য দিতে হবে না বিশ্বব্যাংককে
বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, বন্দরের কাজ কম্পিউটার নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে কম্পিউটার বন্ধ থাকে। এতে কাজের জট তৈরি হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জেনারেটর বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্যবহৃত হয়। তবে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বাজারের বিভিন্ন দোকানের জেনারেটর থেকে ভাড়া করা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। তাও সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। স্থানীয় সোনালী ব্যাংকেও জেনারেটর বসিয়ে কাস্টমস হাউসের ডিউটি সংক্রান্ত চালানসহ ব্যাংকের অন্যান্য কাজ করা হচ্ছে। এতে সবারই খরচবেড়ে যাচ্ছে।
শার্শা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনোয়ারুল ইসলাম জানান, পিডিবির কাছ থেকে ঠিকমত বিদ্যুৎ সাপ্লাই না হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। এর পরও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বেনাপোলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
/জেবি/







