বখাটেদের হাত থেকে বাঁচতে খুলনা প্রেসক্লাবে রবিবার থেকে অবস্থান নিয়েছে স্কুল ছাত্রী ফারজানা আক্তার অনামিকা (১৪) ও তার মা মমতাজ বেগম। ফারজানা নগরীর ফুলবাড়িগেট ইউসুফ এমএ মজিদ স্কুলের জেএসসি পরীক্ষার্থী।
ফারজানা আক্তার জানায়, প্রতিনিয়ত তাদের গতিবিধি অনুসরণ করছে এলাকার বখাটেরা। দুদিন আগে তাদের বাড়িতে হামলা করে ঘরের সব মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। চারটি সাদা কাগজে জোর করে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়শ একই এলাকার নান্টু মোল্লার ছেলে নাঈম মেয়েটিকে উত্যক্ত করতো। গত ১১ জুন ফারজানার পরিবার দৌলতপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। পুলিশ নাঈমকে আটক করে। পরে ওই দিনই তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই বখাটের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়রা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ করেছেন।
ফারজানার মা জানান, রবিবার সকালে দৌলতপুর থানায় গেলে তাদেরকে আদালতে মামলা করতে বলা হয়। বাড়িতে যেতে চাইলে পুলিশ তাদেরকে বলেছে সেখানে কোনও ধরনের ক্ষতি হলে তার দায় তারা নেবে না।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আনোয়ার হোসেন বলেন, তাদের অভিযোগের কারণে নাঈম নামে এক যুবককে ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত ওই যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয়।
তিনি বলেন, এলাকায় ওই পরিবারটির ওপর সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ রয়েছে। এর ফলে তারা সরকারি জমির বসতভিটায় যেতে সাহস পাচ্ছে না। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে গিয়েও সহযোগিতা পায়নি।
ওসি আরও বলেন, স্থানীয় লোকজনের নামে এ পর্যন্ত তারা প্রায় দুই ডজন মামলা করেছে। এলাকায় ওই মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সহায়তা করার কারণে পরিবারটি এখনও স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম জানান, মা-মেয়ে খুলনা প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়েছে। তাদের আইনানুগ সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
/এসটি/







