সাতক্ষীরার কলেজগুলো অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। কোনও শিক্ষক বা শিক্ষার্থী ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তার তথ্য কলেজ প্রশাসনকে জানানোর জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও নাশকতা রোধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলায় পাঁচটি সরকারি ও ৬০টি বেসরকারি কলেজ রয়েছে।
ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ, শ্যামনগর সরকারি মহাসিন কলেজ, কলারোয়া সরকারি কলেজ, তালা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, সাতক্ষীরা ডে নাইট কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই ধরনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এম হাসান সরোওয়ার্দী ও সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আমান আল হাদী বলেন, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে যেসব নবীন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে তাদের নিয়মিত ক্লাস করার জন্য বলা হয়েছে। ঈদের পরে ক্লাস শুরু হওয়ায় ও বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার একটু কম। এখন যেসব শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে তাদের হাজিরা নেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত ক্লাসও নেওয়া হচ্ছে।
আমান উল্লাহ আল হাদী বলেন, এ বছর ১ হাজার ৩৭ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া সরকারি কলেজে নিয়মিত প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের সবার খোঁজ রাখা কঠিন। তারপরও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তদারকি করা হচ্ছে।
সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফ আহমেদ আশিক ও আল মঈন ও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী হাবিবা খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করলে কোনও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। আমাদের যেসব বন্ধুরা নিয়মিত ক্লাসে আসছে না তাদের খোঁজ-খবর নেব যাতে তারা বিপথগামী হয়ে না পড়ে। এছাড়া দেশে সন্ত্রাসী বা জঙ্গিবাদ রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
গণজাগরণ মঞ্চের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, সাধারণত যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা অনেক দিন ধরে নিখোঁজ থাকছে। কিন্তু তাদের পরিবার সেটি বলতে পারছে না। এজন্য শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয় নিয়ে খোঁজ-খবর বা কাউন্সেলিং করা হলে তাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সহজ হবে। এতে করে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক হতে পারবে।
সাতক্ষীরার শিক্ষাবিদ নিমাই চন্দ্র মণ্ডল বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেই যে জঙ্গি কার্যক্রমে অংশ নিবে তা বলা যাবে না। তবে এ রকম হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী যে নিদের্শনা জারি করেছেন সেটি প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করলে শুধু জঙ্গিবাদ মোকাবিলাই নয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনেও সফলতা আসবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটানা ১০ দিনের বেশি অনুনোমোদিতভাবে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে কাউকে অযথা হয়রানি করা যাবে না বলেও শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
জঙ্গি তৎপরতায় এগিয়ে নর্থ-সাউথ, বুয়েট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
জাকির নায়েক আলেম নন, দাঁতের ডাক্তার: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক
/বিটি/








