খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থীরা আবারও চাঙা হচ্ছে

হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা প্রতিনিধি
১৮ জুলাই ২০১৬, ০৩:৫৮আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৬, ০৩:৫৯

খুলনা খুলনাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে আবারও চাঙা হচ্ছে চরমপন্থীরা। ইতোমধ্যেই খুলনা কারাগারে বোমা হামলা ও ঝিনাইদহে চেয়ারম্যান নজরুল হত্যার দায় স্বীকার করেছে পূর্ব বাংলার কউিনিস্ট পার্টি (এমএল জনযুদ্ধ) ও (এম এল)। আর এমএল জনযুদ্ধও নামে খুলনার রূপসায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও জীবননাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। হুমকি দেওয়ার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রূপসা উপজেলার রহিমনগর পল্লীবিদ্যুৎ অফিস ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম ও তার সহকর্মীরা। তবে, পুলিশ বলছে, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ঘটনায় চরমপন্থীদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি প্রকৃতপক্ষেই চরমপন্থীরা এ কাজ করছে, তা সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
খুলনার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, রূপসার ঘটনায় থানায় অভিযোগ এসেছে। এ ঘটনাটি চরমপন্থীদের নাম ব্যবহার করেও ঘটানো হতে পারে। কারণ চরমপন্থীদের এক সময়ের স্বর্গভূমি রূপসায় এখন পর্যন্ত চরমপন্থীদের কোনও ধরনের তৎপরতাই পুলিশের নজরে আসেনি। এরপরও চাঁদা দাবি ও জীবননাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে।

গত ৫ জুলাই রাতে রূপসার রহিমনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জ শহিদুল ইসলামের কাছে মোবাইলে এমএল জনযুদ্ধের বিভাগীয় প্রধান লিমন পরিচয়ে এসএমএস পাঠানো হয়। তাতে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করাসহ টাকা না দিয়ে চালাকি করলে বিপদ আছে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এসএমএস পাঠানোর কিছু সময় পর চরমপন্থী লিমন মোবাইলে ফোন করে শহিদুলকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে দাবিকৃত চাঁদা প্রদানের জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ ঘটনার পর শহিদুল ৬ জুলাই রূপসা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি করার পর চরমপন্থী লিমন আবারও এসএমএস এবং ফোন করে শহিদুলকে জীবননাশের হুমকি দেয়।

পল্লীবিদ্যুৎ বাগেরহাট অফিসের জিএম মোতাহার রহমান বলেন, ঘটনার পর রূপসা থানায় জিডি করা হয়েছে। শহিদুল অনেকটা ভয় পেয়েছে। ফলে রূপসার রহিমনগরের অফিসটি ঈদের পর থেকে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে রহিমনগরের অফিসের আওতায় ১৯টি গ্রামের ৬ হাজার গ্রাহক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ওই অফিসে নতুন লোককে দায়িত্বে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও গ্রাহক সমস্যার সমাধান করার চিন্তা করা হচ্ছে।

পল্লীবিদ্যুৎ রূপসার রহিমনগর অফিসের ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, ৫ জুলাই রাতে ঘটনার পর ৬ জুলাই রূপসা থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে কর্তব্যরত এসআই সুজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং জিডি করেন। এরপর তিনি বাগেরহাট চলে যান। সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন। তিনি না থাকার কারণে রূপসার রহিমনগরের অফিসের কর্মীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, রূপসায় জঙ্গী, চরমপন্থী বা সন্ত্রাসীদের কোনও তৎপরতা নেই। কেউ চরমপন্থীর নাম ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৯ জুলাই রাতে খুলনা জেলা কারাগার চত্বরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কোনও প্রকার হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্ট হয়। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল জনযুদ্ধ) ১০ জুলাই এ ঘটনার দায় স্বীকার করে। মোবাইল ফোনে দায় স্বীকারকালে পার্টি ও খুলনা বিভাগীয় প্রধান লিমন বলেন, কারাগারে থাকা পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কারারক্ষীসহ কর্মকর্তারা দুর্ব্যবহার করছে। তাই তাদেরকে সতর্ক করতে এই বোমা হামলা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেওয়া এ সতর্ক বার্তার পর নির্যাতন বন্ধ না হলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফোনে আলাপকালে লিমন জানন, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে আত্মগোপন করে ছিলেন। সম্প্রতি দেশে এসেছেন এবং পার্টির কর্মীদের নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ভারতে থাকাকালেও পার্টির সক্রিয় কার্যক্রম চলমান ছিল।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র, বিশেষ শাখার এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, খুলনায় চরমপন্থীদের তৎপরতা সংক্রান্ত কোনও তথ্য পুলিশের জানা নেই। আর কারাগার চত্বরে বোমা হামলার দায় স্বীকার সংক্রান্ত বিষয়ও তিনি জানেন না। তিনি বলেন, কারাগার চত্বরসহ কারাগারকেন্দ্রিক ৩টি মামলার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই করা হচ্ছে। কারাগার চত্বরে বোমা হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ওই হামলার নেপথ্য নায়কদের পাওয়া তথ্য উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে, গত ৬ জুন বেলা ১টা ১০মিনিটে প্রকাশ্য দিবালকে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানা এলাকায় খুন হন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। এ ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৪ জুলাই ইমেইল বার্তা প্রেরণ করে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম এল)। ইমেইল বার্তায় বলা হয়, পার্টির গেরিলারা সম্পূর্ণ গেরিলা কায়দায় প্রকাশ্যে দিবালোকে জনগণের ‘ঘৃণিত শত্রু’ নজরুলকে খতম করেছেন। হরিণাকুণ্ডু থানা ও তিওরাবিলা পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যবর্তী স্থানে এই খতম কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, এর গভীরতা অনেক বড়, কেননা এই খতম বিন্দু থেকে বৃহত্তরে যাওয়ার এক অভূতপূর্ব সূচনা। এর তাৎপর্য অনেক গভীরে। পার্টির নির্দেশনায় এই খতম এমন সময় সংগঠিত হয়েছে, যখন পার্র্টি অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে সংগঠিত হয়েছে। বিপর্যস্ত এলাকাতে শ্রেণিসংগ্রাম বিকশিত করার ক্ষেত্রে কমরেড মনিরুজ্জামান তারা ও বাদল দত্তের উত্তরসুরী কমরেড মোফাখ্খার চৌধুরী ও ডাক্তার টুটুলের শিক্ষা বদলা নেওয়া ছাড়া শ্রেণিসংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এই নজরুল খতম বলে ইমেইল বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

/এইচকে/

আরও পড়ুন চাঁদপুরে টর্নেডোর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের