‘নিখোঁজ নাজিম জঙ্গি নয়, ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে’

যশোর প্রতিনিধি
২৫ জুলাই ২০১৬, ১৬:০৫আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৬, ২১:৫৬

দুই মাস আগে নিখোঁজ যশোরের মণিরামপুরের জিএম নাজিমউদ্দিন ওরফে নকশা নাজিমের (৪২) সন্ধান মেলেনি আজও। অনেক খোঁজ করেও তার কোনও সন্ধান পাননি স্বজনরা।

তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের দাবি, ‘তিনি কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন। সাদা পোশাকে ডিবি পরিচয়ে মাইক্রোবাসে করে গত ২৫ মে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকেই নিখোঁজ তিনি।’ নকশা-নাজিম

নাজিমউদ্দিন-নাজমা দম্পতির তুবা (১৮) ও তৈয়বা (১৩) দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। তুবা বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে থাকেন। আর ছোট মেয়ে তৈয়বা স্থানীয় পৌরসভা বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।

মণিরামপুর পৌর শহরের দুর্গাপুর জামায়াত মসজিদের অদূরে এলাকা মৃত হাসান আলী গাজীর বড় ছেলে নাজিম। তার ছোট ভাই আজিম ইজিবাইক চালক। মণিরামপুর সম্মিলনী স্কুল থেকে এসএসসি ও ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর স্থানীয় একটি দুধ উৎপাদন কোম্পানিতে চাকরি করতেন নাজিম। এরপর ১৯৯৭ সালে ২৩ বছর বয়সে উপজেলার জালঝাড়া গ্রামে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে মণিরামপুর কলেজে ডিগ্রি ভর্তি হন। ছাত্রজীবনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেও পরে রাজনীতি ছেড়ে দেন।

বিয়ের পর তিনি এক বছর সময়কাল তাবলীগ জামায়াত করতেন বলে স্ত্রী নাজমা জানান। এরপর মণিরামপুর পৌর শহরের দক্ষিণ মাথায় নকশা কম্পিউটার নামে একটি দোকান দেন নাজিম। ২০১২ সালের দিকে সেই দোকানটি বিক্রি করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। সেখানে দু’বছর থাকার পর গত বছরের ২৭ রমজান দেশে ফেরেন। বাড়ি এসে বড় মেয়ে কলেজপড়ুয়া তুবাকে পাশের খানপুর গ্রামে বিয়ে দেন। তখন ৬ মাস বাড়িতে ছিলেন তিনি।

তারপর ঢাকায় থেকে ব্যবসায়ী পার্টনার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার লুচিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ গাউসুল আজমের (৪০) সঙ্গে সৌদিআরবে নারীকর্মী পাঠাতেন অর্থাৎ আদম ব্যবসা করতেন তিনি। মাঝে মাঝে আবার বাড়িতেও আসতেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের ১৮ মে ঢাকার বসুন্ধরার বাসা নম্বর ৫২, রোড নম্বর ১৪, এফ- ব্লকে বন্ধু খন্দকার মাহফুজ আলমের (৩৮) কাছে বেড়াতে যান নাজিম। মাহফুজ যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকার মৃত খন্দকার জায়েদ আলীর ছেলে। বন্ধুর বাসায় থাকা অবস্থায় ২৫ মে পার্টনার গাউসুল আজমের ফোন পেয়ে সকাল ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হন। গাউসুলের ঢাকার মিরপুরে অফিস করার কথা ছিল এবং সেখানে নাজিমকে কম্পিউটারের কাজ করার কথা বলে সেই দোকান দেখাতে তাকে ফোন করে মিরপুরে ডেকে নেন গাউসুল। ওইদিন (২৫ মে) বেলা ১১ টার দিকে মিরপুর এলাকা হতে গাউসুলের সামনেইসাদা পোশাকে ডিবি পরিচয়ে মাইক্রোবাস করে নাজিমকে তুলে নিয়ে যায় ৪ ব্যক্তি। কিন্তু গাউসুল ঘটনার কিছুই নাজিমের পরিবারকে জানাননি। এরপর থেকে মোবাইলফোনে নাজিমকে না পেয়ে গাউসুলের কাছে ফোন দিয়ে ঘটনা জানতে পারেন নাজিমের পরিবার। খবর পেয়ে নাজিমের স্ত্রী নাজমা ঢাকায় গিয়ে স্বামীকে সম্ভাব্য সবখানে খোঁজ করেও কোনও সন্ধান মেলাতে পারেননি। ফলে ২৮ মে ঢাকার পল্লবী ও ভাটারা থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু মামলা না নিয়ে ভাটারা থানা পুলিশ একটি নিখোঁজ ডায়রি (১৭৩০) গ্রহণ করে। তারপর থেকে আজও নাজিমের কোনও খোঁজ পাননি স্বজনরা। নকশা-নাজিমের-বাড়ি

এদিকে স্বামী হারানোর ঘটনায় গত ১ জুন বুধবার যশোর প্রেসক্লাবে ও ১৬ জুলাই শনিবার ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নাজিমের স্ত্রী নাজমা। একইসঙ্গে ঢাকাস্থ ডিবি কার্যালয়ে স্বামীর ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আসেন তিনি।

সম্প্রতি জঙ্গি ইস্যুতে সরকারের তৎপরতার অংশ হিসাবে ঈদুল ফিতরের ৪ দিন পরে মণিরামপুর থানা পুলিশ নাজিমের বাড়িতে যায়। তবে কেউ বাড়িতে না থাকায় পুলিশের সঙ্গে তাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। তাছাড়া এই পর্যন্ত থানা পুলিশের ফোন পেয়ে তিনি তিন দফা থানায় হাজির হয়ে পুলিশকে সম্ভাব্য সব তথ্য দিয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নকশা নাজিম আফগান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তবে তার স্ত্রী নাজমা সেই দাবি নাকচ করে বলেন, ‘এসব কথা কখনও শুনিনি। এছাড়া বিদেশ থেকে আসার পর কখনও কারও সঙ্গে এমন আলাপ করতেও দেখিনি।’

নাজিম জঙ্গি নয় দাবি করে নাজমা বলেন, ‘দুই মাস আগে আমার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর ঢাকায় আমি মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। কই তখন তো তাকে জঙ্গি বলা হয়নি। এখন তাকে কেন জঙ্গি বলা হচ্ছে?’ নাজিম দেশের মধ্যেই আছে, ডিবি তার খোঁজ বলতে পারবে বলে তিনি দাবি করেন।

নাজিমের প্রতিবেশী মর্জিনা জানান, ‘খুবই শান্ত স্বভাবের ছিলেন এই নাজিম। কখনও বাইরের কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করতে দেখিনি তাকে।’

একই দাবি স্থানীয় মুদি দোকানি বৃদ্ধ সোবহানের। তিনি বলেন,‘নাজিম ভাল ছেলে। তাছাড়া ঢাকায় থেকে সে আদম ব্যবসা করতো বলে শুনেছি।’

মণিরামপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ বলেন,‘নাজিম ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই বলে জানতে পেরেছি। তবে পুলিশ এই ব্যাপারে সঠিক তথ্য সংগ্রহে তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত সন্দেহে ৫ জনের নামের একটি তালিকা ও পোস্টার প্রকাশ করে তা ছড়িয়ে দিয়েছে যশোর পুলিশ। এই তালিকার শেষ নামটি মণিরামপুরের নকশা নাজিমের।

আরও পড়ুন: জঙ্গি তালিকায় নিজের নাম দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মুন্না 

/টিএন/আপ-এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ