সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ

১১ বছরেও শেষ হয়নি খুলনার ৫ মামলার বিচার

খুলনা প্রতিনিধি
১৬ আগস্ট ২০১৬, ২২:১৩আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৬, ২২:১৯

খুলনা ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) পরিকল্পনায় দেশব্যাপী হয়েছিল সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ। সেসময় খুলনায়ও ১০টি স্থানে বোমা বিস্ফোরণ হয়। ওই সব ঘটনায় মহানগর ও জেলার ৪টি থানায় ৬টি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা থানার ১টি মামলায় জঙ্গিদের ৭ বছরের সাজা হয়। আর খুলনা মহানগরীর ৫টি মামলার বিচার গত ১১ বছরেও শেষ হয়নি। সাক্ষীদের না পাওয়া, নোটিশ দেওয়ার পরও সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলার বিচার কাজবিলম্বিত হচ্ছে।
খুলনার যুগ্ম মহানগর দ্বিতীয় আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট মো. আল আমিন উকিল বলেন, সিরিজ বোমা হামলায় খুলনার ৫টি মামলায় এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ৫টি মামলার কার্যক্রম একই দিন রাখা হচ্ছে। এই ৫টি মামলার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ তৎপর রয়েছে। সাক্ষীদের সময়মতো আদালতে হাজির করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

খুলনার যুগ্ম মহানগর দ্বিতীয় আদালতের পেশকার শেখ জাকির হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে দেওয়া সাক্ষীদের ঠিকানা পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে ওই ঠিকানায় নোটিশ পাঠালে তা সাক্ষীদের কাছে যাচ্ছে না। আর সেখানে দেওয়া অন্য ঠিকানায় তাদের সন্ধ্যান মিলছে না। এর ফলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার ব্যাপারে থানা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ধার্য দিনে হয়তো সাক্ষ্যগ্রহণ করার মতো সাক্ষী হাজির পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলার বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই সঙ্গে খুলনা মহানগর ও জেলার ১০টি স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন  জেএমবি জঙ্গিরা এই সিরিজ বোমা হামলার দায় স্বীকার করে। এই ঘটনায় দুই শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোমার স্প্লিন্টার ও জেএমবির  লিফলেট উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ওই দিনই দুই শীর্ষ জঙ্গি নেতা জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মহানগরীর খুলনা সদর থানায় ২টি, দৌলতপুর থানায় ২টি ও খানজাহান আলী থানায় ১টি এবং জেলার বটিয়াঘাটা থানায় ১টিসহ পৃথকভাবে ৬টি মামলা দায়ের করে।

খুলনা সদর থানায় করা ২টি মামলায় পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ২০০৫ সালের ৮ নভেম্বর। আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ১২ জুন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ওই বছরের ২২ জুলাই। এ মামলায় সাক্ষী রয়েছে ৪৭ জন। দৌলতপুর থানায় দায়েরকৃত মামলায় চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ২০ মে। সাক্ষী রয়েছে ২৯ জন। খানজাহান আলী থানায় করা মামলায় চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ২৯ জুন। এ মামলায় সাক্ষী ৩৯ জন।

সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় খুলনার ৪টি মামলার আসামিরা এক ও অভিন্ন। মামলাগুলোর বিচারকালীন আদালতে জেএমবির সদস্য আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ, মাহবুবুর রহমান লিটন, শহীদুল্লাহ ওরফে লোকমান, হাফেজ মাহমুদ ওরফে সুমন, মেহেদী হাসান ওরফে তানভীর, রুহুল কুদ্দুস ওরফে পিন্টু এবং সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান ওরফে তানভীর ও হাফেজ মাহমুদ ওরফে সুমন পলাতক রয়েছে। বাকি ৫ জন খুলনার জেলহাজতে রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। 

খুলনার ৬টি মামলার মধ্যে মহানগরীর ৫টি মামলা বর্তমানে খুলনার যুগ্ম মহানগর দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে। বটিয়াঘাটা থানায় দায়ের করা মামলাটির বিচার শেষে রায় ঘোষণা করা হয় ২০১০ সালের ৩১ মে। খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ৭ বছর কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ভারতীয় ট্রলার থেকে ৩টি লাশ উদ্ধার 

/এআর/এমএসএম/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম