আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পশু ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়েছে। ব্যাপারিরা জেলার বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার এমনকি বাড়িতে গিয়ে গবাদি পশু কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করেছেন। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদফতর ও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য দু’লাখ গরু প্রস্তুত রয়েছে। যা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবারহ করা সম্ভব হবে। তবে খামারিরা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কা করছেন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, গরু খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মাঠে থেকে সব সময় খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, গত বছর কুষ্টিয়ার গো-খামারিরা লাভবান হওয়ায় এবারও তারা বড় আকারে বিনিয়োগ করেছেন। কোরবানিকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭ হাজার ৮১০টি গো-খামার গড়ে উঠেছে। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তারা পশু পালন এবং ক্রয়-বিক্রয় করছেন। খামারিদের কারণে এখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তবে কোরবানির সময় ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের কারণে এখানকার খামারি ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হন।
জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদফতর সূত্র জানায়, বর্তমানে কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় ১৭ হাজার ৮১০টি খামার রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৯০ হাজার গরু, ৫০ হাজার ছাগল এবং তিন হাজার খামারে ভেড়া পালন করা হচ্ছে। সবেচেয়ে বেশি খামার রয়েছে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায়। সরকারি মতে, সদর উপজেলায় চার হাজার ৪০০টি খামারে ২২ হাজারের বেশি গরু পালন করা হচ্ছে।
তবে সরকারি হিসেবের বাইরেও জেলার খামারি এবং কোরবানির পশুর সংখ্যা অনেক বেশি। এছাড়াও মিরপুর, ভেড়ামারা, কুমারখালী, খোকসা ও দৌলতপুরে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশু রয়েছে।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশাদুল হক বলেন, ‘প্রতি উপজেলায় কোরবানির পশুর জন্য আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। পশুর রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আমরা এখনও গরু মোটাকরণের ট্যাবলেট সেবনের অভিযোগ পাইনি। স্থানীয়দের সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিলি করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিরা এই ধরনের কোনও কাজে যুক্ত নন। তবে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কোরবানির আগ মুহূর্তে এ ধরনের কাজ করে থাকে।’
সদর উপজেলার হররার গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, আমার খামারের ২৮টির মতো গরু ইতিমধ্যে ঢাকার এক ব্যবসায়ী ভালো দামে কিনে নিয়েছেন। এবার পশু বিক্রি করে ভালোই দাম পাচ্ছি।
স্থানীয় ‘কাজী ফার্ম’ এর মালিক কাজী শওকত জানান, এবার তার খামারে ১৮০টির মতো পশু রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০টি ঢাকার হেমায়েতপুর জালালাবাদে নেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো ঈদের আগেই ঢাকায় নেওয়া হবে। আর কিছু পশু আগামী বছরের জন্য থাকবে। এর মধ্যে ১৪টি সাদা মহিষ এবং ২০টির মতো ছোট ভুটানি গরু রয়েছে। তবে আমাদের কাছে খবর আছে, ভারতীয় সীমান্তে কয়েক লাখ গরু, মহিষ রাখা হয়েছে। বর্ডার খুলে দিলে এবারও কোরবানির পশুর বাজারে ধস নামবে।
আরও পড়ুন:
বগুড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সামরিক শাখার প্রধানসহ নিহত ২
কিঞ্চিৎ সন্দেহে বাসা ছাড়তে নোটিশ দেওয়া হয় না.গঞ্জে নিহত জঙ্গিদের
/এনএস/বিটি/








