১৮ বছর পার হলেও বিচার মেলেনি সাংবাদিক মুকুল হত্যার

যশোর প্রতিনিধি
৩০ আগস্ট ২০১৬, ১০:৩৯আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৬, ১০:৪৮

সাইফুল-আলম-মুকুল ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার, যশোরে প্রকাশিত ‘দৈনিক রানার’ পত্রিকার সম্পাদক  আরএম সাইফুল আলম মুকুলের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।  দীর্ঘসময় পার হলেও মুকুল হত্যার বিচার পাননি তার স্বজন ও সহকর্মীরা। বিচার না পাওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী হাফিজা আখতার শিরিন এখন আর এ বিষয়ে কোনও কথাই বলতে চান না।
এদিকে, ৬ বছর ধরে হাইকোর্টের একটি আদেশের অপেক্ষায় মামলাটি যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত থেকে স্পেশাল জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে। সেখানেও হাইকোর্টের রায়ে অপেক্ষায় পড়ে আছে সাক্ষ্য শেষ হওয়া মামলাটি।
এ আদালতের পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ জানান, কয়েকদিন আগে মামলাটি  স্পেশাল জেলা জজ আদালতে বদলি হয়ে এসেছে। তিনি মামলার নথি দেখেছেন। ২০১০ সালেই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এক আসামির পক্ষে স্থগিতের আদেশ থাকায় রায় হচ্ছে না। ওই স্থগিতাদাশের ব্যাপারে হাইকোর্টের প্রতিবেদন দাখিল ও ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষার জন্য আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য আছে। প্রতিবেদনটি পেলে শিগগিরই আর্গুমেন্ট শেষে রায় পাওয়া সম্ভব হবে।

মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী হাফিজা আখতার শিরিন জানান, এ মামলায় তিনি ন্যায় বিচার পাবেন না। যে কারণে তিনি এখন আর মামলার বিষয়ে কোনও কথা বলতে চান না।

এদিকে বিচারের আশায় প্রতিবছরের মত এবারও মুকুলের মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে যশোরের সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন। সাংবাদিক সাইফুল আলমের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র‌্যালি, শহীদের কবর জিয়ারত, আলোচনাসভা ও মিলাদ মাহফিল।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে দৈনিক রানার সম্পাদক মুকুল শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে চারখাম্বার মোড়ে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন। পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আখতার শিরিন কারও নাম উল্লেখ না করে একটি মামলা করেন।

পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলাল উদ্দিন আকন্দ ১৯৯৯ সালের ২৫ এপ্রিল সাবেক মন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তরিকুল ইসলামসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

আসামিদের মধ্যে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদও ছিলেন।

তবে এ ব্যাপারে বাদী অসন্তুষ্ট হয়ে  চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি পিটিশন দেন। তার দাবি ছিল, পর্যাপ্ত তদন্ত না করে, কোনও অভিযুক্তের জবানবন্দি রেকর্ড না করে, দুর্বল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে; যা বিচারে টিকবে না।

পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালত নারাজি খারিজ করলে বাদী হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। এক পর্যায়ে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমই বাতিল করে দেন। এরপর বাদী হাফিজা আখতার শিরিন প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে প্রায় দুই বছর পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং আদালতের নির্দেশে সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি মাওলা বক্স এর তদন্ত করেন।

পরে ২০০৫ সালের ২১ ডিসেম্বর তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার ফারাজী আজমল হোসেনসহ দু’জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। অপর নতুন অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম পান্না শহরের বেজপাড়া এলাকার লিটন হত্যা মামলায় ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ মো. শফিকুল ইসলামের আদালতে মুকুল হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মতে এদিন সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও বেজপাড়া এলাকার রূপমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। ফলে আসামির সংখ্যা কমে ২২ জনে দাঁড়ায়। এরপর একই বছর ১৬ অক্টোবর অভিযুক্ত ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোর্ট থেকে তার অংশের বিচার কাজ স্থগিত করান। এছাড়া টগর নামে অপর এক অভিযুক্ত মারা যাওয়ায় তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। এরপর আরও একজন মারা গেলে  এ মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ জনে।

২০১০ সালে মামলার ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্ব আসামি পরীক্ষা শেষে রায়ের জন্য প্রস্তুত হয় মামলটি।

কিন্তু গত ৬ বছরে ফারাজী আজমল হোসেনের স্থগিত অংশের বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে কোনও নির্দেশনা না দেওয়ায় নিম্ন আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করতে পারছেন না।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জের আস্তানায় ছিল ১৬ জঙ্গির যাতায়াত 

 /এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের