যশোর সদরের পল্লীতে আল ফাতিম (দেড় বছর) নামে এক শিশু আগুনে পুড়ে মারা গেছে। পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দাদিই শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে শিশুর মা।
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ফাতিমের সৎ মা সীমা (৩০) খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফাতিমের দাদি মনোয়ারা বেগম ও তার বোন মুসলিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
শুকুবার ভোররাত ৩টার দিকে সদরের নরেন্দ্রপুর হামড়াতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুর মা রোজিনা খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার দিনগত গভীররাতে তার শাশুড়ি মোবাইলফোনে তাকে জানান- ল্যাম্পের আগুন থেকে ঘরে আগুন লেগে ফাতিম মারা গেছে। এ খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তিনি শ্বশুরবাড়ি এসে দেখেন তার ছেলে আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
তার অভিযোগ, শাশুড়িই এই আগুন লাগিয়েছেন। তিনি জানান, তার স্বামী আল আমিন বিশ্বাস মালয়েশিয়ায় থাকেন। তার আরও দুই সতীন রয়েছে। তিনি বাপের বাড়িতেই থাকেন। দিন ১৫ আগে তার শাশুড়ি জানান- নাতিকে দেখতে তার খুব ইচ্ছে করছে। এই কথা বলে ফাতিমকে তার নানাবাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খলসি গ্রাম থেকে নিয়ে যান।
রোজিনা বলেন, ছেলে ফাতিমকে ফিরিযে দিতে বলায় শাশুড়ি তাকে বলেন- ওকে আর যেতে দেবেন না। খুব দেখার ইচ্ছে থাকলে সে যেন নরেন্দ্রপুরে এসে দেখে যায়।
রোজিনার বাবা ও নিহতের নানা ইসমাইল মোল্যার দাবি, মনোয়ারা বেগম পরিকল্পিতভাবেই ঘরে আগুন দিয়ে ফাতিমকে হত্যা করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ফাতিম ও তার সৎ মা সীমা মাটির বেড়া ও টালির একটি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। গভীররাতে সেখানে আগুনে শিশুটি পুড়ে মারা যায় এবং সীমা দগ্ধ হন।
শুক্রবার সকালে সদরের নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহরাব হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘরের ভেতর তোষক, কাঁথা আর বালিশ এবং সীমার শাড়ি পুড়ে যায়। সেখান থেকে তিনি পেট্রোলের একটি খালি পাত্র উদ্ধার করেছেন।
তার ধারণা, রাতে পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মনোয়ারা বেগম ও তার বোন মুসলিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
লন্ডনের প্রভাবশালীদের তালিকায় টিউলিপসহ চার বাংলাদেশি
বিদেশি কূটনীতিকরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, শীর্ষে পাকিস্তান
/এফএস/






