সাতক্ষীরার সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও মহাসড়কগুলোর একটিও ভালো অবস্থায় নেই। মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতে রাস্তার ওপর পানি জমে থাকা ও ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের কারণে বছরের অধিকাংশ সময় সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থা বেহাল থাকে। আর এ বেহাল দশার কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
জানা যায়, সাতক্ষীরা-খুলনা ও সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কসহ পৌর এলাকা এবং বিভিন্ন উপজেলার সড়ক-মহাসড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে যান চলাচলে একেবারেই অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। কোনও কোনও সড়কের কার্পেটিং, ঝিল ও পাথর উঠে, বৃষ্টির পানিতে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কের মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে খুলনা এবং সাতক্ষীরা থেকে যশোর মহাসড়ক অন্যতম। ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকসহ হাজার হাজার বাস-ট্রাক-পিক আপ চলাচল করে এ মহাসড়কে। বর্তমানে যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।
নির্মাণের ছয় মাস যেতে না যেতেই সাতক্ষীরা শহর থেকে মেডিক্যাল কলেজ, নিউমার্কেট থেকে চায়না-বাংলা মোড়, হাসপাতাল মোড়, বাস টার্মিনাল ও বিজিবি হেড কোয়ার্টার্স হয়ে তালতলা পর্যন্ত ৭ কি.মি. রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানা খন্দে ভরা মহাসড়কের এইসব অংশটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগের অন্ত নেই পথচারীদের।
এছাড়া সাতক্ষীরা-আশাশুনী সড়কের ২২ কিলোমিটারের অধিকাংশ চলাচলের অনুপযোগী, সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে ৬৪ কিলোমিটার সড়কেরও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গাড়ির চালকসহ অধিবাসীদের অনেকে জানান, সাতক্ষীরা- খুলনা মহাসড়কের সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস গেট থেকে শুরু করে বিনেরপোতা পর্যন্ত সড়কের ওপর ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত তালতলা বিজিবি হেডকোয়ার্টারের সামনে বিভিন্ন সময় খাদে পড়ে যানবহন বিকল হয়ে পড়ছে। বিজিবি হেডকোয়ার্টারের সামনে প্রায় আধ কিলোমিটার সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলগেট সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে সড়কের ওপর খাদে পড়ে প্রায়ই বিকল হয়ে যায় যাত্রাবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক প্রভৃতি ভারী গাড়ি। এ ধরনের ঘটনায় সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে মিলগেট থেকে তালতলা পর্যন্ত প্রায় আধ কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্ট হয়।
এছাড়া সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের শহরের সার্কিট হাউজ এলাকা থেকে বাকাল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তায় যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় মাস আগে নির্মাণকৃত এ মহাসড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মূল কারণ ঠিকাদারদের দুর্নীতি। রাজনীতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তাদের কমিশন দিতে দিতে গিয়ে ঠিকাদারদের যথাযতভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার জানান।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম মহাসড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে জানান, ইতিমধ্যে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। টেন্ডারও হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ভাঙা রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
/এইচকে/
পড়ুন: খর্বকায় নারীর স্বীকৃতি পেতে পারে ‘রুপা’ ও ‘মিম’








