অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে এবং দস্যুদমনে সুন্দরবনের গভীর বনে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার র্যাব-৮ এর পক্ষ থেকে এ অভিযান শুরু হয়।
র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জেলে অপহরণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ এ অভিযান শুরু করা হয়েছে। বনদস্যুদের হাতে জিম্মি জেলেদের উদ্ধার ও দস্যুদমনের লক্ষ্যে এ অভিযান চলছে।’
সুন্দরবনে বর্তমানে জাহাঙ্গীর ও জোনাব বাহিনীর তৎপরতার ওপর র্যাব নজরদারি করছে জানিয়ে মেজর আদনান কবির বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে র্যাব-৮ এ অভিযান পরিচালনা করলেও র্যাব-৬ এবং কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’
মঙ্গলবার সুন্দরবনের চান্দেশ্বর এলাকা থেকে ২০টি নৌকাসহ ১০ জেলে অপহৃত হন। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের চান্দেশ্বর এলাকায় ইলিশ মাছ শিকার করছিল এ জেলেরা। অপহৃত জেলেদের কাছে মুক্তিপণ বাবদ জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। বেশ কয়েকজন জেলেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও স্থানীয় জেলে ও মহাজনেররা জানিয়েছেন। তারা জানান, বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী এদেরকে অপহরণ করেছে। গত দুমাসে দস্যুরা শতাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে বলে তাদের দাবি।
জেলে-মহাজনরা বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবনের কয়েকটি দস্যু বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও কোনওভাবেই কমছে না সুন্দরবনের দস্যুতা। বড় বাহিনীগুলো আত্মসমর্পন করার পর থেকে সুন্দরবনে বেপরোয় হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীর বাহিনী।
গত দেড় মাস আগে কোকিলমনি এলাকায় পাস নিয়ে মাছ যাওয়ার পর সশস্ত্র দস্যুরা মারধর করে ৩২টি নৌকা থেকে টাকা পয়সা ও মালামাল লুটে নেয়। ওই সময়ে দস্যুরা ৩০ জেলেকে অপহরণ করে।
তারা জানান, জুলাই ও আগস্ট মাসে দুই দফায় ৩৮ জেলেকে অপহরণ করে দস্যুরা। এরপর আরও ২৪ জেলেকে অপহরণ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে সুন্দরবনের দুধমুখী ও ভাইজোড়া খাল থেকে ১২ জেলে দস্যুরা অপহরণ করে। অপহৃত জেলেদের কাছে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে জাহাঙ্গীর বাহিনীর পক্ষ থেকে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ১১ জেলে ও ১৪ সেপ্টেম্বর ধানসিদ্ধির চর এলাকা থেকে ২০ জেলেকে অপহৃত হন।
র্যাব-৬ খুলনার পরিচালক (সিও) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবন বনদস্যুদের উর্বর ক্ষেত্র। একটি বাহিনী ভাঙলে নতুন দল তৈরি হয়। এ সব দস্যুদের বিরুদ্ধে র্যাবের তৎপরতাও অব্যহত রয়েছে। র্যাব সতর্কতার সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
সিও বলেন, ‘বনদস্যুরা আগের তুলনায় এখন অনেকটা কোণঠাসা। অনেকগুলো প্রভাবশালী বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনেক বাহিনীর সদস্যরা দস্যুতা ছেড়েও দিয়েছে।’
/এএ/








