আজ ২৫ নভেম্বর শুক্রবার, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। ছুটির দিন হওয়ায় শনিবার এ উপলক্ষে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন এনজিও মানববন্ধন ও আলোচনা সভা পালন করবে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘রঙিন পৃথিবীর রঙিন আলো, সকল নারী থাকুক ভালো’। আইনের সঠিক প্রয়োগ, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় দিন দিন এ অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
খুলনা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত মহানগরসহ খুলনার ৯ উপজেলায় ২২৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতন, ৫০ জন ধর্ষণের শিকার, শিকার এবং ২৩ জন পাচার হয়। প্রতি মাসে এ জেলায় গড়ে ২২ জন নারী ও শিশু নির্যাতন, ৫ জন ধর্ষণের শিকার ও ২ জন পাচার হচ্ছে। মহানগরীর আটটি থানা এলাকায় ১০৩ জন নারী ও শিশু নির্যাতন, ২০ জন ধর্ষণ এবং ১১ জন পাচার হয়েছে। অন্যদিকে জেলার নয়টি থানা এলাকায় ১২৩ জন নারী ও শিশু নির্যাতন, ৩০ জন ধর্ষণ, ১২ জন পাচার হয়।
খুলনার নেত্রী শামীমা সুলতানা শিলু বলেন, খুলনায় নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও নারী ও শিশু পাচার বেড়েই চলেছে। প্রতি মাসে ধর্ষণ ও নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা ঘটছে। উপজেলাগুলোতে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন ধর্মের লোকের বাস। এ কারণে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিরোধ সনদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সিডো সনদ আইনটি পাস হওয়ায় আপত্তি রয়েছে। এই আইন পাস করা হলে নারী অধিকার পূর্ণতা পেত।
খুলনা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস ফাতেমা জামিন বলেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে নির্যাতনে শিকার হওয়া ৮০ জন নারীকে সহায়তা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ জন নারী রয়েছেন আবাসিক। সরকারিভাবে খাওয়া দাওয়া থাকার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর বাইরে রয়েছে ৩০ জন। তিনি বলেন, শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় শনিবার নারী নির্যাতনের প্রতিরোধ দিবস পালন করা হবে।
সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুকান্ত কুমার সরকার জানান, খুলনায় স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা ও নির্যাতিতদের মধ্যে চলতি বছরের জুন মাস ১০ হাজার ৩৪৭ জনকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেককে মাসে ৪০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। আরও একটি চাইল্ড হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে। শিশু নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ শিকার হওয়া নারীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী চাইল্ড হেল্প লাইন চালু করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র বিশেষ শাখার এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, মহানগরীতে অপরাধ দমনে পূর্বের যে কোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। এর ফলে শহর এলাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধ হ্রাস পাচ্ছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মো. নিজামুল হক মোল্লা বলেন, অপরাধীরা চতুরতার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুর ওপর হামলা, নির্যাতন অথবা পাচার কার্যক্রম করে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় এদের সক্রিয় ভূমিকায় নারী ও শিশুকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করাসহ সার্বিক অপরাধ দমন করা সহজ হবে। প্রতিটি থানা পুলিশ এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
/এইচকে/







