মংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় বঙ্গাপসাগরে ডুবে যাওয়া কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ এমভি আইজগাতী’র উদ্ধার কাজ শুরু হতে দুই থেকে তিনদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে জাহাজটির মালিকপক্ষ। শুক্রবার রাতে ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিক কাজী গোলাম ফারুক এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার সকালে বন্দরের আউটার এ্যাংকরেজ এর ১০ নম্বর ফেয়ার বয়ার কাছে জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটি সেখানেই রয়েছে।
কাজী গোলাম ফারুক বলেন, ‘ডুবে যাওয়া জাহাজে ১২ জন কর্মীসহ মোট ১৪ জন ছিল। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর তাদের অন্য একটি জাহাজ উদ্ধার করে। রাত পৌঁনে ১২টার দিকে জাহাজের কর্মীরা মংলা থানায় রিপোর্ট করার পর নিরাপদে গন্তব্যে ফিরে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন জাহাজটি উদ্ধারের জন্য স্যালভেজ ঠিক করতে হবে। এ জন্য ২ থেকে ৩দিন সময় লাগবে।এরপর প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
জাহাজের মালিক বলেন, ‘জাহাজটি মূল চ্যানেলের অনেক বাইরে ডুবেছে। এর ফলে চ্যানেলে অন্য নৌযান স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করতে পারছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ এলাকায় ৩০ ফুট পানি রয়েছে। জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। এখন ওই জাহাজের ওপরে ১২ থেকে ১৩ ফুট পানি রয়েছে।’
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ কে এম ফারুক হাসান জানান, গভীর সাগরে এই কার্গো জাহাজ ডুবির ফলে বন্দর চ্যানেলের কোন ক্ষতি বা ঝুঁকি নেই। ইতোমধ্যে মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার ওয়ালিউল্লাকে জাহাজটি ডুবির বিষয়ে নিবিড় মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডুবে যাওয়া নৌযানটি উদ্ধারের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী মাদার ভেসেল ‘এমভি লেডি মেরি ’ ২৪ ডিসেম্বর কয়লা বোঝাই করে মংলা বন্দরের আউটার এ্যাংকরেজে আসে। ২ দিন আগে মাদার ভেসেলটি বঙ্গোপসাগরের বন্দর চ্যানেলের ১২ বয়ার কাছে লাইটারেজ কার্গোতে পণ্য খালাস শুরু করে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে লাইটারেজ এমভি আইজগাতী জাহাজ কয়লা নিয়ে যশোরের নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরপরই জাহাজটি ধীরে ধীরে সাগরে ১০ নম্বর বয়ার কাছে ডুবে যায়।
মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার মো. ওয়ালিউল্লাহ জানান, হিরণপয়েন্ট ও ফেয়ারওয়ের ১০ নম্বর লাল বয়া এলাকায় কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজটি ডুবে আছে। যা বন্দরের মূল চ্যানেল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। এ কারণে মংলা সমুদ্র বন্দরে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন ও নির্গমনে কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মংলা বন্দরে পণ্য ওঠা-নামার কাজে নিয়োজিত স্থানীয় প্রতিষ্ঠান (স্টিভেডোর) মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী এইচ এম দুলাল বলেন, ‘যশোরের নওয়াপাড়া এলাকার নওয়াপাড়া ট্রেডার্স দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪৮ হাজার টন কয়লা আমদানি করে। এমভি লেডিমেরি নামের একটি জাহাজ ওই কয়লা নিয়ে মংলা উপকূলে পৌঁছে সাগরে নোঙর করে। সেখান থেকে ছোট জাহাজে করে কয়লা নওয়াপাড়ায় নেওয়ার কাজ চলছিল। জাহাজ থেকে কয়লা নিয়ে এমভি আইজগাঁতি নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর ১০ নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় ডুবে যায়।
কোস্টগার্ডের পশ্চিজোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. এ এম রাহাতুজ্জামান জানান, কার্গো ডুবির খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের দু’টি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সমুদ্রে দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর পশুর চ্যানেলের জয়মনি এলাকায় জিয়রাজ নামে একটি নৌযান ৫১০ টন কয়লা নিয়ে ও ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে সি হর্স-১ নামে একটি কার্গো ডুবির ঘটনা ঘটে। দু’টি জাহাজই মালিক পক্ষ নদী থেকে ওপরে তুলেছেন। এবারও মালিক পক্ষ দ্রুত ১ হাজার ১০ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটি উদ্ধার করবে বলে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আশাপ্রকাশ করেছেন। এরও আগে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ওই শেলা নদীতেই ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে একটি অয়েল ট্যাঙ্কার ডুবে যায়। তাতে বিস্তৃীর্ণ এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, কয়লাসহ জাহাজ ডুবিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি খুলনা জেলা শাখার নেতারা।
/এমডিপি/








