নড়াইলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সোনালি ফসলে ভরে আছে মাঠ। জেলার তিন উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪১ হাজার ১৩৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে ধান পেকেও গেছে। ফসল ঘরে তোলার জন্য অধীরে আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কৃষাণ-কৃষাণি। সপ্তাহ খানেক আগেও বেজায় খুশি ছিলেন তারা। এখন তাদের চোখেমুখে বিষাদের ছায়া। কারণ শ্রমিকের অভাবে পাকা ধান ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। আবার আগাম বর্ষায় অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় জমির ধান পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলায় ১৯ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে, কালিয়া উপজেলায় ১৫ হাজার ৮৮৪ হেক্টর জমিতে এবং লোহাগড়া উপজেলায় ৭ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, আগাম বৃষ্টির পর আপাত দুর্যোগ কাটিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ধানকাটা শুরু হয়েছে। শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরির কারণে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।
কালিয়ার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক আবু দাউদ শেখ এবং আমবাড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, এখন একজন শ্রমিককে প্রতিদিন ধান কাটা বাবদ ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। অনেক সময় টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। এ কারণে পাকা ধান কেটে তা ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শ্রমিক না পেয়ে কোথাও কোথাও পরিবার নিয়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নড়াইলের উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল হক জানান, ঝড় ও বৃষ্টিতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন কৃষকরা। জেলার হাটে প্রতিমণ নতুন বোরো ধান ৯০০ থেকে সাড়ে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
/এসটি/







