খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৬০৮ জনের। কিন্তু বর্তমানে সেখানে বন্দি রয়েছেন ১ হাজার ৩৪৫ জন। আর এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। বাকিদের বিচার চলছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। দ্রুত মামলাসমূহের নিস্পত্তি করে হাজতিদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১০ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২ ঘন্টা খুলনা জেলা কারাগার পরিদর্শন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে থাকা ১৩ বন্দির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এম রবিউল ইসলাম ও খুলনা জেল সুপার মো. কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
কারাগার পরিদর্শনকালে তিনি ১৭ বছরের একজন বাক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে দেখতে পান। কোনও মামলা না থাকা এবং আসামি না হওয়ার পরও সে কারাগারে বন্দি থাকায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তাকে দ্রুত তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা সরকারের শেল্টার হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে লঘু অপরাধে অভিযুক্ত দুই ভারতীয় নাগরিককে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা জেল সুপার মো. কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাক প্রতিবন্ধী মেয়েটি সাতক্ষীরার ছিল। তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশ ছিল তাকে বাগেরহাট সেফ হোমে পাঠানোর জন্য। সেভাবে প্রস্তুতিও চলছিল। বুধবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের নির্দেশের পর তাকে বাগেরহাট সেফ হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ভারতীয় দুই নাগরিকের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘লঘু অপরাধ হলেও তাদের মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। বিচার শেষ হওয়ার পরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।’
/এফএস/
আরও পড়ুন-








