সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে মাদি কুমির জুলিয়েটের পর এবার ৪৮টি ডিম পেড়েছে আরেক মাদি কুমির পিলপিল। রবিবার (২১ মে) ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এগুলো পাড়ে কুমিরটি। বর্তমানে ডিমগুলো কেন্দ্রের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সঠিক তাপ ও আর্দ্রতা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও আলোর ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। আগামী ৯০দিনের মধ্যে এ ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ৯ মে অপর মাদি কুমির জুলিয়েট ৪৩টি ডিম পাড়ে। রবিবার সকাল ১০টায় করমজলের ওসি হাওলাদার আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন ‘পিলপিলের পাড়া ৪৮টি ডিমের মধ্যে ৪টি ডিমে কিছুটা ক্ষত হয়েছে। এর আগে গত বছর একই সময় পিলপিল ৫১টি ডিম দেয়। সেই ডিম থেকে ৯০দিন পর ৪৩টি বাচ্চা ফোটে।’
বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নোনা পানির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও তা সংরক্ষণে ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রে বন বিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র সরকারি এ কুমির প্রজননকেন্দ্র। বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় কেন্দ্রটি।
শুরুতেই জেলেদের জালে ধরা পড়া ছোট-বড় পাঁচটি কুমির দিয়ে কেন্দ্রে প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কেন্দ্রে নোনা পানির দুটি বড় মাদি কুমির জুলিয়েট ও পিলপিল এবং একটি পুরুষ কুমির রোমিওসহ ছোট ২১১টি কুমির রয়েছে।
এই কেন্দ্র থেকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, পটুয়াখালী বন বিভাগ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে কুমির অবমুক্ত করা হয়।
সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে তিন প্রজাতির কুমিরের অস্তিত্ব ছিল। লবণ পানির কুমির, মিঠা পানির কুমির ও গঙ্গোত্রীয় কুমির বা ঘড়িয়াল। এর মধ্যে মিঠা পানির কুমির ও ঘড়িয়ালের বিলুপ্তি ঘটেছে। এখন শুধু লবণ পানির কুমিরের অস্তিত্বই আছে। এরা সাধারণত ৬০-৬৫ বছর পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। আর ৮০-১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।’
/এফএস/
আরও পড়ুন-
তালা মেরে ‘জঙ্গি আস্তানা’ ছেড়েছে র্যাব







