সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করে আব্দুস সালাম ওরফে আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে রয়েছেন। সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার আব্দুস সালাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী সালমা বেগম, ছোট ভাই মুনিরুজ্জামান, ভাইয়ের স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে মহিদুল ইসলাম নিশাত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৯ এপ্রিল চৌগাছা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুস সালাম নগদ তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে চৌগাছা বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সুখপুকুরিয়া গ্রামের ঠাকুরদরগা এলাকায় একই গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মাবুদ মিয়া ও তার সঙ্গীরা আব্দুস সালামের হাত ও পায়ের রগ কেটে সঙ্গে থাকা সব টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় সঙ্গে থাকা স্ত্রী সালমা বেগমকেও মারপিট করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় সালামকে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতিতে সেখান থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাবিনা খাতুন চৌগাছা থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও মিলন নামে মাত্র একজন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও মিলন জামিনে বেরিয়ে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসীরা বর্তমানে আব্দুস সালামকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। মামলা না তুললে হত্যা করা হবে বলেও শাসিয়েছে। এজন্য ভয়ে তারা নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে নিশাতকে স্কুলে পাঠানোও বন্ধ করে দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সালমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে যারা চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কিন্তু পুলিশ তাদের আটক করছে না। উল্টো সন্ত্রাসীরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমার ছেলের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এখন জীবনাশঙ্কায় ভুগছি।’
জানতে চাইলে চৌগাছা থানার ওসি এম মসিউর রহমান এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আজ সকালেও এসআই অনিলকে ফোর্সসহ আসামিদের ধরতে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ আসামিদের পায়নি; তারা পলাতক রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা হুমকির বিষয়টি থানাকে অবহিত করেননি। তারপরও বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
/বিএল/







