ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা শালিখা উপজেলার সীমাখালীতে চিত্রা নদীর ওপর থাকা বেইলি ব্রিজটি প্রায় সাড়ে চার মাস আগে ভেঙে পড়লেও এখনও সেটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। যে কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ ভারতে যোগাযোগ রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটিতে মাসের পর মাস বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এর ফলে আসন্ন ঈদে এ সড়ক দিয়ে ঘরমুখো যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুটি ১০ চাকার পাথর বোঝাই ট্রাক ও একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে ভেঙে পড়ে সীমাখালী ব্রিজটি। সেতু ভেঙে পড়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে দেড় মাস পর ২৪ মার্চ শুরু করা হয় সংযোগ সড়ক ও বেইলি ব্রিজ নির্মাণ কাজ। সিডিউলে নির্ধারিত সময় আগামী ৩০ মে এর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজ চলছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ঈদের আগে ব্রিজটি যানবহন চলাচলের জন্য উপযুক্ত হওয়ার সম্ভবনা নেই বললেই চলে।
এ দিকে টেন্ডার প্রক্রিয়া ও কাজের ধীর গতির কারণে দীর্ঘ সাড়ে তিন মসেও বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু না করায় ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-সাতক্ষীরা, বেনাপোল ও মংলা বন্দরের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ রক্ষাকারী এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে (যশোর-মাগুরা) নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এলাকাবাসী সেলিম মিয়া বলেন, কাজের খুবই ধীর গতি। হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছে। এভাবে চললে আরও দুই মাস লাগবে কাজ শেষ হতে।
ঢাকায় ব্যবসা করেন যশোরের রফিকুল ইসলাম। মোবাইল ফোনে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমনিতেই ঈদের সময় ফেরি পার হতে সারারাত অপেক্ষা করতে হয়। তার ওপর সীমাখালী ব্রিজ অনুপযুক্ত হওয়ায় বিকল্প পথে যশোর যেতে আরও এক ঘণ্টা বেশি সময় লাগবে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার ঈদে বাড়িতে যাবো না।
আব্দুর রহমান নিয়মিত মাগুরা থেকে যশোর অফিস করেন। প্রায় চার মাস ধরে নসিমন, করিমনে করে মাগুরা থেকে যশোর যাতাযাত করছেন। সীমাখালীতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হচ্ছেন। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে নদীর দুই পাড়ে খাড়া ঢাল বেয়ে ওঠা ওঠা-নামা করতে গিয়ে অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। এ অবস্থায় সুযোগ সন্ধানীরা যাত্রীদের একটি ব্যাগ পার করতে একশ’ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম অবশ্য বলছে, তারা সিডিউল অনুযায়ী সঠিক নিয়মে কাজ করছেন। তার দাবি ৭০ ভাগ কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনও অর্থ বরাদ্দ পাননি।তবু চেষ্টা করছেন ঈদের আগেই কাজ শেষ করতে।
মাগুরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরনবী তরফদার বলেন, ‘কাজ সঠিক নিয়মে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না হলেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ঈদের আগেই কাজ শেষ করার।
/এআর/







