খুলনা মহানগরীর লবণচরায় অবস্থিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ অর্থায়নে নির্মাণাধীন খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের রূপসা রেল সেতু দফতর অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান মালামাল একের পর এক চুরি হচ্ছে। সর্বশেষ এই প্রকল্পের কংক্রিট মিক্সচার মেশিনের চারটি ব্যাটারি চুরি হয়। বুধবার (১৯ জুলাই) এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। এর আগে এখান থেকে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরনের মালামালও চুরি হয়েছিল।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাথাভাঙ্গায় রূপসা রেল সেতু এলাকায় খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের কংক্রিট মিক্সচার মেশিনের ব্যাটারি চুরি হয়। এ অভিযোগে প্রকল্প ম্যানেজার মাহাবুবুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রকল্পে কর্মরত গাড়িচালক আব্দুর রশিদকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবীর ওরফে হুমায়ূন আক্তার বাবুল (৩০) ও ব্যাটারির ক্রেতা আরিফুল ইসলাম টুটুলকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৪টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। প্রকল্পে কর্মরত আব্দুর রশিদের সহায়তায় বাকি দুজনের বিরুদ্ধে এই ব্যাটারি চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, রেল সেতু প্রকল্পে ১৭০ জন শ্রমিক, ১৫ জন নিরাপত্তা প্রহরী এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দুই শতাধিক লোক কর্মরত। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান মালামাল প্রায়ই চুরি হচ্ছে।
বিভিন্ন সময় ছোট-খাটো চুরির ঘটনা ঘটলেও এবার প্রকল্পের কংক্রিট মিক্সচার মেশিনের মূল্যবান হাইভোল্টেজ ব্যাটারি চুরি হয়। যার প্রতিটির মূল্য ১৬ হাজার টাকা। চুরির মূলহোতা হিসেবে প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রেনুমা করপোরেশনের গাড়িচালক আব্দুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে গত ছয় মাস ধরে এ প্রকল্পে কর্মরত। এছাড়া তার সহযোগী হুমায়ুন কবীর ওরফে হুমায়ূন আক্তার বাবুলও একসময় ট্রলিচালক ও বোর্ডম্যান হিসেবে এ প্রকল্পে কর্মরত ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগে প্রকল্পের গেস্ট হাউজের বাবুর্চি ও হেলপারের মাধ্যমে একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময়ও মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে ল্যাপটপ উদ্ধার হয়। তবে খোদ প্রকল্পে কর্মরতরাই মালামাল চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চুরি ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ পুরো সেতু প্রকল্প এলাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ২০ ভাগও দ্রুত সিসিটিভির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এটি সম্পন্ন প্রকল্প দফতর এলাকার নিরাপত্তা সয়ংক্রিয় হবে।
/এআর/







