জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও বছর দেড়েক বাকি। রাজধানীসহ সারা দেশেই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে রাজনৈতিক দলগুলোয়। আগামী নির্বাচন কেমন হবে, কে কোন দল থেকে মনোনয়ন পাবেন-তা নিয়ে চলছে চায়ের কাপে ঝড়। বাগেরহাটেও নির্বাচনি হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এ জেলায় সংসদীয় আসন চারটি। গত দুই নির্বাচনে সব আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি থেকে কে কোন আসনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন তা নিয়েই আলোচনার বিষয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে ফেলেছেন জনপদ।
বাগেরহাট-১ (মোল্লাহাট-ফকিরহাট ও চিতলমারী) আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে নির্বাচন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনে এ আসনে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি নির্বাচন না করলে শেখ হেলাল উদ্দিন বা তার ছেলে শেখ সারহান নাসের তন্ময় প্রার্থী হতে পারেন। শেখ তন্ময় তার বাবার আসনসহ বাগেরহাট সদর আসনে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।
এ আসনে নির্বাচন করে একাধিকবার পরাজিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শেখ মজিবর রহমান। এবার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাগেরহাট-১ আসনে নির্বাচন করা অনেক কঠিন। গোপালগঞ্জের পাশে হওয়ায় এই আসন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। তারপরও দল যদি মনোনয়ন দেয় তবে চেষ্টা করবো।’
বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর ও কচুয়া)আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা দুই দলের প্রার্থীই নির্বাচিত হয়েছেন। গত দুবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় পায়। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মীর শওকাত আলী বাদশা ২০০৮ এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয় চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ চাইছে, এমপি শেখ হেলাল বা তার ছেলে শেখ তন্ময় প্রার্থী হোক। এছাড়া জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ও বাগেরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র আব্দুল বাকী তালুকদার মনোনয়ন চাইতে পারেন।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু বলেন, ‘মনোনয়ন বোর্ডের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা সবাই তার হয়ে কাজ করবো।’
এ আসনে বিএনপির হয়ে লড়বেন জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম। বয়সে তরুণ এই নেতা নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মোংলা) আসনে ১৯৯১ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। এবার এই আসনে লড়বেন আব্দুল খালেক।
বিএনপির হয়ে রামপালের বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, মংলা পৌর মেয়র জুলফিকার আলী এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলি রেজা বাবু মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘আমি রামপাল উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা, দুই দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তৃর্ণমূলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। দলের জন্য যা করেছি দলকে ভালোবেসে করেছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যদি আমাকে চায় তাহলে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবো।’
আর মংলা পৌর মেয়র জুলফিকার আলী বলেন, ‘দলের জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, এখনও আমার নামে ৩টি মামলা রয়েছে। দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা করছি।’
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন জেলা বিএনপির নেতা শেখ ফরিদুল ইসলাম। তবে, জেলা জামায়াতের একাধিক সূত্র বলছে, জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির শেখ আব্দুল ওয়াদুদ জোট প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচন করবেন।
বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জও শরণখোলা)আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.মোজাম্মেল হোসেন বিজয়ী হন। আগামী নির্বাচনটি তীব্র-প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় তিনি এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী।এছাড়া মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলায় দলীয় কোন্দলের মধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এবং মোড়েলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিলুল আলম মিলন।
এই আসনে বিএনপি প্রার্থী হতে পারেন,কেন্দ্রীয় বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান খান মতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা ড. কাজী মনিরুজ্জামান, জাতীয়তাবাদী বন্ধু দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শরীফ মোস্তফা জামান লিটু, কাজী খাইরুজ্জামান শিপন।
জেলা জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি-জামায়াত জোট থাকলে এই আসনে এবার জামায়াত থেকে প্রার্থী হবেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম।
/এসএনএইচ/এসটি/








