খুলনায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নুশরাত জাহান করবী ওরফে শোভাকে (১৪) কয়েক মাস ধরে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমন ইভটিজিং করছিল। বিষয়টি ইমনের পরিবারকে জানালে এর মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ইমন গত সোমবার তার মুজগুন্নীর বাসায় ঢুকে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।এসময় শুধু শোভাই নয় তার বড় বোন সুরভি ও মা নার্গিস আক্তার পান্নাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।পরে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তারা চিকিৎসা নেয়। ঘটনার পর বিচার চাইতে থানায় গিয়ে ওই পরিবার আরও বিপত্তিতে পড়ে বলে তাদের অভিযোগ। শোভা শহীদ তিতুমীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।
শোভার মা নারগিস আক্তার বলেন, ঘটনার পর পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে বাসা ছেড়ে মেয়েদের নিয়ে বোনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। অসহায় মানুষ হিসেবে পালানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই। মঙ্গলবার আবারও সাহস নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
খুলনা সিটি পলিটেকনিকের ছাত্রী শোভার বড় বোন সুরভী জানান, লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বাইরে বের হতে ভয় করে। হামলাকারী পুলিশের ছেলে হওয়ায় সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে সংসয় রয়েছে।
ইমনের বাবা খালিশপুর থানার এস আই বুলবুল আহমদ বিশ্বাস বলেন, ‘সোমবার সকালে আমি বাসায় ছিলাম না, হয়তো তাদের সঙ্গে ইমনের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। ইমন আমার স্ত্রীর আগের ঘরের ছেলে।’
শোভার বাবা আব্দুল মান্নান মুন্না বলেন, ‘বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানোর কারণে খালিশপুর থানা থেকে এক নারী পুলিশ ফোন করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়েছে।’
ইভটিজিং এর শিকার শোভা বলেন,‘আড়াই মাস ধরে একই স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র ইমন তাকে বাজে কথা আসছে। মা ইমনের মাকে বিষয়টি জানানোর পর থেকে ইমন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং উগ্র আচরণ শুরু করে। জানা গেছে, মুজগুন্নী শেখপাড়া মসজিদের পাশে মৃত মহি দারগার বাড়ির ভাড়া বাসায় আব্দুল মান্নান স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে বসবাস করেন। একই বাড়িতে ভাড়া থাকেন খালিশপুর থানার এসআই মো. বুলবুল আহমেদ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রথম পক্ষের ছেলে ইমন।
এ ব্যাপারে খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে ছেলে ও মেয়ে দুই পরিবার থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা তদন্ত করার জন্য থানার সেকেন্ড অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জেনে পরবর্তীকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়তে পারেন: বরিশালে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মিষ্টি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট







