নাটোরের একটি ইটভাটা থেকে তিন শ্রমিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের দাবি, তাদের আটকে রেখে কাজ করানো হচ্ছিল। তারা চলে আসতে চাইলে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এঘটনায় করা মামলার সূত্র ধরে ভাটার ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার কান্দিভিটুয়া এলাকার টিবিএম ইটভাটা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। ইটভাটার মালিক শরিফুল ইসলাম রমজান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
উদ্ধারকৃতরা হলেন, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বরনডালি গ্রামের সোহেল উদ্দিনের ছেলে পলাশ (১৮), আজিজার রহমানের ছেলে টিপু সুলতান (৩৫) ও নরিম মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪)। গ্রেফতার ভাটার ম্যানেজার আবুল কালাম সদর উপজেলার দিয়ারভিটা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। এঘটনায় পলাশের চাচা কফিল উদ্দিন বাদী হয়ে ম্যানেজারসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের নামে সদর থানায় একটি মামলা করেছেন।
সদর থানায় করা মামলায় বলা হয়, গত ৪ ডিসেম্বর পলাশ, টিপু ও মনিরুল কাজের উদ্দেশে সদর উপজেলার পণ্ডিতগ্রামের একটি ইট ভাটায় আসে। পরের দিন ৫ ডিসেম্বর কালামসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন তাদের বেশি দামে কাজ দেওয়ার কথা বলে টিবিএম ইট ভাটায় নিয়ে যায় এবং সেখানে আটকে রাখে।
পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কফিলের কাছে তিন জনের মুক্তির জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করে। কফিলসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাদের ছাড়েনি। বরং আরও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দিলে আটককৃতদের ভাটার আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল জানান, মুক্তিপণের বিষয়টি প্রমাণ হলে রমজানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরণের কর্মকাণ্ড মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইট ভাটার মালিক শরিফুল ইসলাম জানান, শ্রমিক সরদার বিল্লাল টিবিএম ভাটায় ইট তৈরির কাজে ১৫ জন শ্রমিক নিয়োগ করার কথা বলে ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে অগ্রিম ৩ লাখ টাকা নিয়েছে। কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর কিছু শ্রমিক পালিয়ে গেলে সরদার বিল্লাল প্রয়োজনীয় শ্রমিক আনার কথা বলে যশোর যায়। ৬ ও ৭ তারিখে তার সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে সে জানায় কয়েক জন শ্রমিক পেয়েছে, তাদের নিয়ে দ্রুত চলে আসবে। কিন্তু ৮ তারিখে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা (সদর থানা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু) ফোনে করে জানায়, বিল্লালের প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন লোক যশোর থেকে এসেছে। তারা অ্যাডভান্স নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে বিল্লালের শ্রমিক পলাশ, টিপু ও মনিরুলকে নিয়ে যেতে চায়। প্রতিনিধিদের ভাটায় আসতে বললে তারা ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দেয় এবং বাঁকি টাকা পরে দিবে বলে জানায়। কিন্তু স্থানীয় পরিচিত কাউকে গ্যারান্টার হিসেবে চাইলে, এমন কাউকে নিয়ে আসার জন্য তারা ভাটা থেকে বের হয়। পরে প্রতিপক্ষের লোকজনের প্ররোচনা তারা থানায় গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করে। পলাশ, টিপু ও মনিরুলকে আটক করা হয়নি বরং তারা ভাটায় নিয়মিত কাজ করছিল আর ম্যানেজারের রুমেই থাকা, খাওয়া করছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে শরিফুল ইসলাম রমজান দাবি করেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে চান। বিধায় প্রতিপক্ষরা তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য বাদীদের মামলা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। পুলিশ পলাশ, টিপু ও মনিরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত বিষয় জানতে পারবে।
বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে সদর থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, কালামকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে। আর পলাশ, টিপু ও মনিরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাশ, টিপু ও মনিরুলের প্রাপ্ত বক্তব্য অনুযায়ী কালামসহ অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শত কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’, মনে ছিল উৎকণ্ঠাও








