আত্মহত্যা নয়, মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে; মায়ের এমন অভিযোগে আদালতের নির্দেশে দাফনের ৯ মাস পর এক কিশোরীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরীর উপস্থিতিতে মাগুরা পৌর কবরস্থান থেকে ওই কিশোরীর লাশ উত্তোলন করা হয়।
২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে তার পরিবার। ওই বছর সে মাগুরার দুধমল্লিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
সদর থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম জানান, পরিবার ও এলাকাবাসীর সংবাদের ভিত্তিতে গত বছরের তিন এপ্রিল শহরের কাউন্সিল পাড়ার ভাড়া বাসা থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে সেসময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু সম্প্রতি ওই কিশোরীর মা হোসনে আরা বেগম তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে মাগুরা সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতে চার জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন।
ওই কিশোরীর মা হোসনে আরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি অন্যের বাসা বাড়িতে কাজ করি। স্বামী অটোচালক। ঘটনার সময় আমার মেয়ে বাসায় একা ছিল। আমি কাজ শেষে বাসায় গিয়ে লাশ দেখে কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি চক্র আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালায়। পরে তড়িঘড়ি করে আমাকে দিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন সম্পন্ন করে। ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া থাকলেও উদ্ধারের সময় দেখা গেছে চেয়ারের ওপর বসা অবস্থায় আমার মেয়ের লাশ রয়েছে। ভাড়া বাসার মালিকের কেয়ারটেকার আজাদ ও সবুজ নামে অপর এক যুবক আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছে প্রতিবেশী বিউটি ও সুফিয়া। এ কারণে দোষীদের শাস্তির দাবিতে আদালতে মামলা করেছি।’
মাগুরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, `ময়নাতদন্তর জন্য আদালতের নির্দেশে ওই কিশোরীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।’








