‘ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ছিল অসম্ভব কল্পনাপ্রবণ। সে ক্ষুদ্রের ভেতর বিশালতাকে খুঁজে পেতো সে। কল্পনা শক্তিই তাকে ভাস্কর হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। এক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি বন্ধুরা ছিলেন তার অনুপ্রেরণা’— বলছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী নাজিম শাহরিয়ার। তিনি সম্পর্কে সদ্যপ্রয়াত ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মামা। শনিবার (১০ মার্চ) অনলাইন বাংলা ট্রিবিউনকে সাক্ষাৎকার দেন তিনি।
নাজিম শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার বড় বোনের প্রথম সন্তান ফেরদৌসী বয়সে আমার চেয়ে বেশ বড়। কিন্তু পরস্পরকে আমরা তুমি বলেই সম্বোধন করতাম। পারিবারিক কারণেই ফেরদৌসী বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছে নানার বাড়িতে, অর্থাৎ আমাদের সঙ্গে। ফলে আমাদের মধ্যে হৃদ্যতা ছিল একটু বেশিই। সে ছিল অসম্ভব কল্পনাপ্রবণ। পরবর্তী সময়ে সেটাই তার ব্যক্তিজীবনে অনেক কাজে এসেছে।’
আশির দশকে পথ চলতে চলতে রাস্তায় পড়ে থাকা কাঠের টুকরো সংগ্রহ করতেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। এই তথ্য জানিয়ে তার মামা বললেন, ‘কাঠের টুকরো সংগ্রহ করে সব বাড়িতে এনে জমা করতো সে। একটি কাঠের টুকরো এনে সে বললো— দেখো, এটাকে হরিণের মতো লাগছে। গভীর মনোযোগে লক্ষ্য করলে আসলেই তাই মনে হতো। এভাবেই সে ক্ষুদ্রের ভেতরে বিশালতা খুঁজে পেতো।’
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্ত ছিলেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। সুযোগ পেলেই রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতেন তিনি। নাজিম শাহরিয়ারের কাছে জানা গেলো এই তথ্য, ‘ফেরদৌসী ভালো রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতো ও রবীন্দ্রনাথের ভক্ত ছিল। সংসার শুরুর পর তার বাসায় অনেক বিশিষ্টজন আড্ডা দিতে আসতেন। ভারতের অনেক রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীও আসতেন।’
নাজিম শাহরিয়ার তখন চাকরি করতেন শিপিং কোম্পানিতে। মাঝে মধ্যে গাড়ি চালিয়ে সেই আড্ডায় অংশ নিতে যেতেন। তার কথায়, ‘আড্ডার বন্ধুরা ফেরদৌসীর কল্পনাপ্রসূত কর্মকে উৎসাহ দিতেন। এটাকে একটা ভিন্ন শিল্পকর্ম হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রেরণা জোগাতেন। পরে সে (ফেরদৌসী) বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার শিল্পকর্মের বহুবার প্রদর্শনী হয়েছে। ফেরদৌসী দুর্দান্ত সব ভাস্কর্য সৃষ্টি করে গেছে। সে নিজের বাসস্থানকে সাজিয়েছিল অনেকটা ফ্যাক্টরির মতো। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী তার এক-একটি শিল্পকর্মের জন্য যুগ যুগ বেঁচে থাকবে শিল্পপ্রেমী মানুষের মনে।’








