খুলনার আটরা বাইপাস সড়ক এলাকার এফ আর জুট মিলস লিমিটেডে বুধবারও পোড়া পাট ও সুতার ভেতর থেকে মাঝে মাঝে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ডাম্পিংয়ের কাজ করছেন। আগুনের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনসহ সার্বিক বিষয় তদন্তে ৩টি সংস্থা থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগুন লাগার ঘটনায় বুধবার (২৮ মার্চ) মিলের মহা-ব্যবস্থাপক মো. তাজুল ইসলাম নগরীর খানজাহান আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন (নং- ১০৯৩)। তিনি সেখানে আগুনে ক্ষতির পরিমাণ ৭৫ কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন। উল্লেখ করা হয়েছে, আগুনে তাদের ৮টি গুদামের সম্পূর্ণ পাট পুড়ে গেছে। আগুনের খবর পেয়ে বুধবারই ঢাকা থেকে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে সার্ভে প্রতিষ্ঠান এশিয়ান, আটলান্টিক ও জনতার পক্ষ থেকেও তিন জন সার্ভেয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স খুলনার উপ-সহকারী পরিচালক ইকবাল বাহার বুলবুল বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পাটের ভেতর থেকে থেকে আগুন জ্বলছে। পুরোপুরি নেভাতে আরও সময় লাগবে। আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ডাম্পিং কাজ করা হচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ না নেভানো পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ এবং কারণ বলা সম্ভব না। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস থেকে ২/১ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’
সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোপাল চন্দ্র গোলদার জানান, আগুনে ক্ষতিসহ সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য করপোরেট শাখার অ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. শহীদুল আলমকে প্রধান করে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন- করপোরেট শাখার অ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. গাজী আল বেরুনী, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার বিশ্বনাথ সোম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ মঞ্জুর হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার মো. হাবিবুর রহমান ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মিজানুর রহমান। এছাড়া মিলের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকের প্রতিনিধি (গোডাউন কিপার) মো. শহীদুল্লাহকেও সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (ক্লেমস) মো. কবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স এবং তিনটি কো- ইন্স্যুরেন্স মিলে এফ আর জুট মিলে ১৫৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বীমা রয়েছে। সার্ভে প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট এবং তাদের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম শেষেই ক্ষতি ও আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যাবে।
গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক শাহ জাহাঙ্গীর আবেদ বলেন, ‘একই প্রতিষ্ঠানে দুই বছর আগে আগুন লেগেছিল। সে সময় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৬ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছিল। তবে, পরে ৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নিতে সম্মতি জানায় তারা। এখনও ওই আগুনের ক্ষতিপূরণ নিস্পত্তি হয়নি।’
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী জানান, আগুন লাগার কারণ উদঘাটনে পুলিশের তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার প্রধান তিনি নিজেই। বাকি দুই সদস্য হলেন- এসআই মো. শওকত আলী ও এসআই বিধান চন্দ্র সানা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে এফআর জুট মিলে আগুনে ৪টি গোডাউনের পাট এবং পাটজাতদ্রব্য-সুতা পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি এবং নৌবাহিনীর দুটিসহ ৯টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এফ আর জুট মিলস লিমিটেডের নামে রাস্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখায় মোট ১০০ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে প্লেজ লোন ৭০ কোটি টাকা এবং হাইপো লোন রয়েছে ৩০ কোটি টাকা। এছাড়াও মিল প্রজেক্টে ব্যাংকের মোটা অংকের ঋণ বিনিয়োগ রয়েছে।
সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার সূত্র জানান, ব্যাংকের রেকর্ড অনুযায়ী মিলটিতে আগুন লাগার আগ পর্যন্ত ‘র’ পাট ছিল ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫০১ মণ এবং পাটপণ্য-সূতা (সিআরটি) ছিল ১ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন। যার ব্যাংক মূল্য (অগ্রীম) ৬৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং বর্তমান বাজার মূল্য ৮৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অপরদিকে, এফআর জুট মিলিটেডের নামে মিলটির নামে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ভবন, মেশিনারিজ এবং পাটসহ ১৫৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বীমা রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পাটের বিপরীতেই রয়েছে ৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকার বীমা। তবে, মোট ১৫৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বীমার মধ্যে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৭০ শতাংশ এবং কো- ইন্স্যুরেন্স হিসেবে প্রগতি, ইস্টার্ন ও পাইওনিয়ারেরও ১০ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে।








