যশোরে সাব্বির হোসেন ছক্কু (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই সময় স্থানীয় লোকজন সমবেত হয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। বুধবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে যশোর শহরের সিটি কলেজপাড়ার ব্যাটারিপট্টি এলাকায় এ ঘটে।
পুলিশের দাবি, ছক্কু একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। একজন শ্রমিক নেতার নেতৃত্বে কতিপয় লোক পুলিশকে মারধর করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, সাব্বির হোসেন যশোর সিটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করার পর ভাইয়ের সঙ্গে মোটর পার্টসের ব্যবসা করেন। তিনি ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে মোটর পার্টস আনেন এবং বেশিরভাগ সময় তিনি ভারতেই থাকেন। একসময় তিনি সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
ঘটনার শিকার সাব্বির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বুধবার বিকাল চারটার দিকে বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাটারিপট্টি এলাকায় আসি। এরপর মোবাইলে এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছিলাম। তখন সাদা পোশাকের দুজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে পায়ের কাছে একটি সাদা কাগজে মোড়া কিছু ফেলে বলেন, তোর কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে, থানায় চল।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় লোকজন দেখে আমাদের কাছে আসে। তারা সাদা পোশাকধারীদের বলেন, আপনারাই তো ওই কাগজে মোড়ানো জিনিস ফেললেন। এই নিয়ে তাদের সঙ্গে সাদা পোশাকধারীদের কথাকাটাকাটি এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এই ফাঁকে আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসি।
যশোর কোতোয়ালি থানার এএসআই শফিকুজ্জামান বলেন, ‘শহরের সিটি কলেজপাড়ার ইকবাল মিয়ার ছেলে ছক্কু একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বিকালে সে ব্যাটারিপট্টির একজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ইয়াবা কিনে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় আমি ইয়াবাসহ ছক্কুকে আটক করি। তখন ছক্কু চিৎকার দিলে মোটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নশুরের নেতৃত্বে শাকিল, বুলবুল, খলিলসহ ২০-২৫ এসে আমাকে মারধর করে ছক্কুকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’
তবে এএসআইর দাবি অস্বীকার করে সাব্বিরের বড় ভাই শাকিল হোসেন বলেন, ব্যাটারিপট্টিতে জটলা দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখি আমার ভাইকে সাদা পোশাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ওই সময় স্থানীয় মুরুব্বিরা পুলিশকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন ছক্কু একজন ব্যবসায়ী এবং ভারতে বেশিরভাগ সময় থাকে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই সিটি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিল; আমিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শুধুমাত্র আমাদের হেনস্তা করতে পুলিশ এই নাটক সাজিয়েছে।’
যশোর টায়ার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিকালে দেখি পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ১০-১২ জন দৌড়ে পালাচ্ছে।
জানতে চাইলে মোটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখছি।
কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন) শামছুদ্দোহা বলেন, ‘মাদকসহ আটক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে লোকজন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে এএসআই শফিকুজ্জামান সামান্য আহত হন। শোনা যাচ্ছে নশু নামে একজন শ্রমিক নেতা ওই আসামি ছিনতাইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।








