খুলনার শিরোমনি শিল্পাঞ্চলের বন্ধ থাকা জুট স্পিনার্স মিলের শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান দুই বছরেও হয়নি। এমনকি ঈদের আগে বকেয়া পাওনা পাওয়া নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকের সঙ্গে আঁতাত করে দাবি আদায় কমিটি আন্দোলন স্থগিত করেছে। ফলে ঈদের আগে বকেয়া না পাওয়ার শঙ্কা আছে।
২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট মালিক মিলটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এরপর মিলের প্রায় দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী আন্দোলন শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা মিল মালিকের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা এবং ঢাকায় মালিকের বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর মিলের মালিক দাবি আদায় কমিটির নেতাদের ঢাকায় ডাকেন। মালিকের সঙ্গে কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম, সদস্য নুরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, শেখ ইকবাল হোসেন,আরিফুল ইসলাম এবং সিপিবি নেতা মোল্যা সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস-উজ জোহা ১৬ মে শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের মজুরি ও স্টাফ অফিসারদের এক মাসের বেতন, ২৬ জুন মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ, যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করা এবং ২৪ রমজানের মধ্যে ২০১৬ সালের ঈদুল আজহার বোনাস ও শ্রমিকদের এক সপ্তাহের মজুরি এবং স্টাফ ও কর্মচারীদের এক মাসের বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে নেতারা খুলনায় ফিরে আসেন এবং আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন। কিন্তু ১৬ মে শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের মজুরি ও স্টাফ-অফিসারদের এক মাসের বেতন প্রদান করা হয়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও পাওনাই পায়নি শ্রমিকরা। তাই শ্রমিকরা পুনরায় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুন মালিকানা জটিলতায় শিরোমনির লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট কোনও প্রকার ঘোষণা ছাড়াই কৌশলে উৎপাদন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয় মিলটি। প্রায় ৮ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। মিলের শ্রমিকদের ৮৪ সপ্তাহের মজুরি, কর্মচারীদের ২৫ মাসের বেতন, কর্মকর্তাদের ২৬ মাসের বেতন, শ্রমিক কর্মকর্তাদের ৩টি বোনাস, পদত্যাগ করা শ্রমিকদের ইন্সুরেন্সের টাকা, মজুরি কমিশনের এরিয়ারের টাকা, ইনক্রিমেন্ট এরিয়ার, গ্রাচুইটিসহ বিভিন্ন বকেয়া বাবদ প্রায় ১২ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮০ টাকা বকেয়া রয়েছে।







