ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর মাঠপাড়া (হঠাৎপাড়া) গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা রাখতে না চাওয়ায় রাজু আহম্মেদ নামে এক শ্রমিকসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহত সবাইকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ জুন) কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর মাঠ পাড়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা এ হামলা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী মিজানুরদের সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল করিম রেজা এ তথ্য জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আহত শ্রমিক রাজু বলেন, মিজানুর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। রাজু, তার ভাই ও মা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা করে আসছে। তারা বিভিন্ন সময় টাকার কথা বলে আমাদের বাড়িতে মাদকদ্রব্য রাখতে চায়। কিন্তু আমরা বাড়িতে এসব রাখতে না চাওয়ায় তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে গণ্ডগোল করতে থাকে। গত এক বছর ধরে তারা আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে তখনও তারা আমাদের বাড়িতে এসব মাদকদ্রব্য রাখার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু আমরা রাখিনি।
রাজ আরও জানায়, শুক্রবার এর জের ধরে তারা আমাদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয। সে সময় মিজানুরসহ তার আত্মীয়-স্বজনরা আমার স্ত্রী মনোয়ার বেগম, শ্বশুর আব্দুল মালেক, শাশুড়ী আম্বিয়া বেগম, শ্যালিকা তহমিনা ও আমাকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করে। আমরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর হাসপাতালে এসেও ফের আমাদেরকে মারধর করতে চায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনার জেরে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিজানুরসহ তার আত্মীয়র সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, মিজানুর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সে ও তার মা দীর্ঘদিন ধরে কাশিপুরে ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছে। অভিযানের মধ্যেও তারা গাঁজা বিক্রি চালিয়ে আসছিল।
কালীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং কাউন্সিলর রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘মিজানুর একজন মাদক ব্যবসায়ী। এখনো সে ও তার মা এলাকায় গাঁজা বিক্রি করে আসছে। এছাড়া পাশের বাড়িতে তারা মাদকদ্রব্য রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু তারা মাদকদ্রব্য রাখতে চায়নি। এসব বিষয় নিয়ে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মিজানুরের বিরোধ চলে আসছিল। শ্রমিক রাজুসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে মারধর করায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর ও তার আত্মীয়দের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। ঘটনার পর মিজানুর ও তার আত্মীয়রা পলাতক রয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যারা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে তারা অভিযোগ দিলে অবশ্যই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







