ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক ছাত্রীকে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে করা মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারের হয়রানির শিকার হয়ে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এরই প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধন করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন ও বিচার দাবি করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও যৌন নিপীড়নকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানায় তারা।
আব্দুর রউফ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই বিভাগের ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বারবার এ ধরনের নানা ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে। আমার এসবের অবসান ও উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
প্রসঙ্গত, এর আগেও ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে এই বিভাগের আসাদুজ্জামান নামের এক শিক্ষক স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া রুহুল আমীন নামের অন্য আরেক শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তি ভোগ করছেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়া আব্দুল হালিম নামের আরেক শিক্ষকের বাসভবনের আলমারি থেকে এক ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা উত্তম মাধ্যম দিয়ে বিষয়টির সমাধান করেন।
তবে আব্দুল হালিম ও রুহুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রভাবশালী শিক্ষকের আস্থাভাজন হওয়ায় তারা কৌশলে ছাড় পেয়ে যায় বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষক। এছাড়া বর্তমানে অভিযুক্ত সঞ্জয়ও একই ব্যক্তির অনুগত শিক্ষক হওয়ায় তিনিও পার পেয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন প্রগতিশীল শিক্ষক নেতা ও শিক্ষার্থীরা।






