ঢাকার বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার লাশটির পরিচয় মিলেছে। তার নাম আবু বক্কর আবু (৬০)। তিনি যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) তার ভাগ্নে আশিকুজ্জামান পরনের পোশাক দেখে লাশটি শনাক্ত করেছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ গত ১৯ নভেম্বর (সোমবার) দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে। চরখেজুরবাগ বেবী সাহেবের ডকইয়ার্ড বরাবর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
আবু ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বলেন, ‘আমরা এখন (রাত সাড়ে নয়টা) ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে রয়েছি। মরদেহ দেখেছি; তাতে পচন ধরেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আবু ভাইয়ের মরদেহ বলে আমরা ধারণা করছি। পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যে এখানে পৌঁছে যাবে। তাদের কাছে থাকা ছবি দেখলেই পুরোপুরি নিশ্চিত হবো।’
অমলেন্দু দাস অপু বলেন, ‘অপহরণের পর আবুর স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ বাবদ অন্তত এক লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ছেড়ে না দিয়ে মেরে ফেলা হলো আবুকে।’
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে বিএনপির মনোনয়ন (যশোর-৬ আসনে) ফরম নিতে আবু বকর আবু ঢাকা যান। ১৮ নভেম্বর রাতে বিজয়নগর এলাকার একটি হোটেলের সামনে থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে যায়।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) ফেসবুকে একটি পোস্ট লাশ উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়। পরনে সাদা পাজামা ও সাদা স্যান্ডো গেঞ্জির কথা বলা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবি আসার পর তা অনেকের দৃষ্টিতে আসে। বিএনপি নেতাকর্মীরা সন্দেহ করতে থাকেন- লাশটি গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীতে নিখোঁজ যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতির।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘১৮ বা ১৯ তারিখে আবু বক্কর আবু নিখোঁজ হন। কিন্তু বুড়িগঙ্গায় পাওয়া মরদেহটি তার কি-না এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আবু বক্কর আবু টানা ২০-২২ বছর কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। চিরকুমার আবুর এলাকায় ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তাও ছিল। তিনি মজিদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ছিলেন। এর আগেও তিনি ওই ইউনিয়নে দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।’
কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মো. আক্কেল আলী জানান, নিহতের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন নিহত ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে লাশটি নেওয়ার জন্য তাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছে। নিহত ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ড ও অন্যান্য পরিচয়মূলক কাগজপত্র না আনা পর্যন্ত তাদের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা যাচ্ছে না। নিহত চেয়ারম্যানের বাবার নাম বদর উদ্দিন সর্দার। বাড়ি যশোর জেলার কেশবপুর থানার বাগদা গ্রামে।







