যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান এমপি কাজী নাবিল আহমেদ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীসহ সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এদেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ স্বস্তিতে থাকেন, সুখে থাকেন। ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই।’
আজ মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ও কেক কেটে নির্বাচনি গণসংযোগ শুরু করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে যশোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কারবালা খ্রিস্টানপাড়ায় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ পৌঁছালে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় মুরুব্বিরা তাকে বড়দিনের শুভেচ্ছা হিসেবে ফুলের তৈরি নৌকা উপহার দেন।
কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতচক্র মানেই দেশ অস্থিতিশীল। তারা ক্ষমতায় এলেই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়। তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, সম্পদহানি, সম্মানহানির ঘটনা ঘটে। তারা দেশকে অন্ধকারের যুগে নিয়ে যেতে চায়। তারা দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানাতে চায়। বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা আর রক্তাক্ত জনপদ ছাড়া তাদের আর ভালো কিছুই নেই।’
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতা প্রশান্ত বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি সৈয়দ মেহেদি হাসান, জেলা যুবলীগ নেতা রাজিবুল আলমসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
এরপর তিনি খড়কী বামনপাড়ায় আরেক নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এখানে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতসহ দলছুট কতিপয় ব্যক্তি তথাকথিত ঐক্যফ্রন্ট গড়ে দেশকে অন্ধকারের পথে নিয়ে যেতে চাইছে। তারা দেশকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। সে কারণে দেশের মানুষ এখন আর ১২ বছর আগের অন্ধকার যুগে ফিরে যেতে চায় না। তারা চায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলেই সংখ্যালঘু নির্যাতন, নানা নামে নানা রঙে দেশে সন্ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম হয়। দেশের প্রতিটি স্থানে একযোগে বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।’
দেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো মাত্র ৩ হাজার মেগাওয়াট। দিনের বেশিরভাগ সময় থাকতো বিদ্যুৎহীন। লোকে বলতো বিদ্যুৎ যায় না, মাঝেমধ্যে আসে। আর জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে এখন ১২ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এখন কমপক্ষে ২২ ঘণ্টা থাকে।’
এরপর দুপুরে তিনি যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা ভৈরব শহীদ চত্বরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মহান বিজয় দিবস শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই কেবল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের প্রকৃত সম্মান দেওয়া সম্ভব। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের সামনে সুদিন। জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হলে আমরা উন্নত বাংলাদেশ, প্রগতির বাংলাদেশ গড়তে পারবো।’
তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানসহ উপস্থিত মানুষের কাছে নৌকা মার্কার প্রতি সমর্থন ও কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নৌকা হলো শান্তির প্রতীক, স্বস্তির প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক। সে কারণে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করা ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।’
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড যশোর জেলা সংসদের আহ্বায়ক কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ আতিকুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ ও পুনর্বাসন) সরকার ফারহানা আক্তার সুমি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এএইচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, শেখ আব্দুর রাজ্জাক, বিএলএফ-র উপপ্রধান অ্যাড. রবিউল আলম, (বৃহত্তর যশোর) মো. নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা যশোর সদরের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী স্বপন, আব্দুল মান্নান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, মহিলা লীগনেত্রী লাইজু জামান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা লুৎফুল কবীর বিজু প্রমুখ।








