খুলনা মহানগরীতে হাবিবুর রহমান সবুজ (২৬) নামের ইটভাটার ঠিকাদার হত্যার কারণ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন বলে জানিয়েছে র্যাব। এ হত্যার ঘটনায় ৫ জন জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো.শামীম সরকার।
তিনি জানান, এ ধরনের ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। সোমবার ভোরে ফকিরহাটের আসাদুজ্জামান ফুলবাড়ি গেট থেকে ও অনুপমকে বটিয়াঘাটা থেকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে এ সব তথ্য জানা যায়। হত্যায় ঘটনায় তাদের সঙ্গে মোস্তফা নামে একজনসহ আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, সবুজ আটক হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর মোস্তফা নামে এক আসামির সঙ্গে পরিচয় হয়। অন্যদের সঙ্গেও সবুজের কারাগারে পরিচয় হয়। সবুজ জামিনে মুক্ত হলে মোস্তফার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় হয়। সবুজ বের হওয়ার পর মোস্তকে জামিনে মুক্ত করতে সহযোগীতা করে। এই সুবাদে মোস্তফার স্ত্রীর সঙ্গে সবুজের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এদিকে মোস্তফা ৩ মাস আগে জামিনে মুক্ত হয়। মুক্তি পাওয়ার পর মোস্তফা তার স্ত্রী ও সবুজের ঘনিষ্টতার কথা জানতে পারে এবং ক্ষুব্ধ হয়। এরপর মোস্তাফা অন্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। অন্যদের আবার সবুজের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল।
জানা গেছে, নিহত সবুজের সঙ্গে খুলনায় বিভিন্ন লোকের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটাকে কন্দ্রে করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আর্থিক বিরোধের অংশ হিসেবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সবুজের বিরুদ্ধে খুলনা আদালতে মামলা দায়ের এবং কারাবাসের ঘটনা পুলিশের সামনে আসে। পুলিশ ওই মামলার বাদিসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে। মৃতদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের পর ঘটনা তদন্তে আশপাশের এলাকার বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি টিভি’র ১০-১১টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ।
একাধিক তদন্ত সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, নিহত সবুজ ও তার সহযোগী আব্দুর রউফ চাকরি দেওয়ার কথা বলে মহানগরীর দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেয়। পরে ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর তাকে ভুয়া নিয়োগপত্র দেয়। এই ঘটনায় হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে নিহত সবুজ ও রউফকে আসামি করে খুলনা মহানগর হাকিমের আমলি আদালত ‘গ’ অঞ্চলে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আটক হয়ে জেলে যাওয়ার পর সেখানে মোস্তফাসহ অন্যদের সঙ্গে সবুজের পরিচয় হয়। আর আর্থিক লেনদেন ও মোস্তফার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবুজকে কৌশলে খুলনায় এনে হত্যা করা হয় বলে র্যাব-৬ এর সদস্যরা জানতে পেরেছে।
নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ সরদার জানান, সবুজ ৫ মার্চ সকালে মোটরসাইকেলে করে খুলনায় যায়। ৭ মার্চ সবুজের খোঁজ জানতে খুলনায় সাদি নামে একজনকে ফোন করা হয়। ওই ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করেন এবং জানান ‘মোস্তফা মামার সঙ্গে হাবিব যশোর গেছে’। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ৭ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত সবুজ ফিরে না আসায় তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি করেন।
তিনি বলেন, তার ছেলের খুলনায় কারো সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়েছিল। ওই মামলায় কিছুদিন আগে তার ছেলে জেলও খেটেছিল। ব্যবসার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাকে কৌশলে খুলনায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহানগরীর শের-এ বাংলা রোডে পলিথিন মোড়ানো মরদেহের একটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুরে ফারাজিপাড়া রোডে ড্রেনের পাশ থেকে দুটি ব্যাগে থাকা মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের পর শনিবার বিকালে লাশের ৭টি খন্ডিত অংশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশের বাকি অংশ সোমবার উদ্ধার হয়। নিহতের ভগ্নিপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে শনিবার খুলনা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।







