যশোরে প্রাইমারি স্কুলের ছয় ছাত্রীকে ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুর রহমানকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নির্যাতনের শিকার চার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রীর বোন বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন।
যশোর শহরের শাহ আব্দুল করিম খড়কী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থীকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা করে একই এলাকার আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় স্কুলশিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ১ মে এলাকায় বিক্ষোভ করেন। এ সময় ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুর রহমান পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় এক স্কুলছাত্রীর বোন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর এলাকার হানিফের ছেলে আমিনুর রহমান। সে যশোর শহরের খড়কী এলাকার পীরবাড়ির পাশের এহসানুল হকের বাড়ির কেয়ারটেকার।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল বিকাল ৩টার দিকে আমিনুর রহমান আম ও ফুল দেওয়ার কথা বলে ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে স্কুলের পাশে এহসানুল হকের বাগানবাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে।
একইভাবে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন সময় স্কুলের আরও তিন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে সে। এছাড়া গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে আরও দুই ছাত্রীকে ওই বাগানবাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ওই দুই ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে ঘটনা জানাজানি হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই হায়াৎ মাহমুদ বলেন, ‘ভিকটিম চার শিশুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে।’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আরিফ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘চার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
গত ২৮ এপ্রিল স্কুলের পরীক্ষায় ৫ শিক্ষার্থী অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পারেন। তারা এ বিষয়ে খোঁজ নিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটিও গঠন করে। ১ মে ওই কমিটির সভা চলাকালে স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ওহিদুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্কুলে যান। তিনি প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আরার সঙ্গে কথা বলে তাকে লিখিতভাবে জানাতে বলেন।
প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আরা জানান, ওই ঘটনার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নানাভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।
কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার বলেন, ‘অভিযুক্ত আমিনুর রহমানকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, স্কুলের পক্ষ থেকে আমাকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।








