যশোরে ৬ স্কুলশিক্ষার্থী ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি মামলার আসামি আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। শনিবার দুপুরে যশোরের বেনাপোল সীমান্তের গাতিপাড়া এলাকার সীমান্ত পিলারের কাছ থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ বলছে, আমিনুর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণ মামলার আসামি আমিনুর অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ভারতে নির্বাচনের কারণে আমিনুর সেই দেশে ঢুকার সুযোগ করতে পারছিল না। কোতোয়ালি পুলিশ গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গাতিপাড়া সীমান্ত পিলারের কাছ থেকে আটক করে।
কোতোয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে দুইটার দিকে গাতিপাড়া সীমান্ত পিলারের কাছ থেকে আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। সে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) আমিনুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন।’
আমিনুর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন সময় যশোর শহরের শাহ আব্দুল করিম (রা.) খড়কী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ শিশু শিক্ষার্থীর চারজনকে বিভিন্ন সময় খাবারের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এছাড়াও সে আরও দুই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় তারা চিৎকার শুরু করলে সে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এক শিশুর বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ এপ্রিল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আমিনুর খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে এক শিক্ষার্থীকে স্কুলের পাশে এহসানুল হকের বাগানবাড়ির বাউন্ডারির মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে।
এছাড়া গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে আরও দুই ছাত্রীকে ওই বাগানবাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় তারা চিৎকার দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
এসব ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই স্কুল কমিটি গত ১মে একটি জরুরি সভা আহ্বান করে। ওই সভায় আমিনুর ও নির্যাতিত শিশু এবং তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমিনুর সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা সেখানে গেলে বিষয়টি প্রচারে আসে।
৬ শিশু শিক্ষার্থী গত ২ মে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী দেয় এবং ৪ জনের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হায়াৎ মাহমুদ বলেছেন,‘রবিবার আমিনুরকে আদালতে পাঠানো হবে।’
তিন মেয়ে সন্তানের জনক আমিনুর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর এলাকার মো. হানেফের ছেলে। সে র্দীঘদিন ধরে খড়কী এলাকায় বসবাস করছে।







