টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে টালবাহানা করায় যশোরে পিডিবি’র (পাওয়ার ডেভেলপেমেন্ট বোর্ড) তিন ইঞ্জিনিয়ার, একজন লাইনম্যান ও গাড়িচালককে আটক করেন গ্রাহকরা। জনগণের রোষানল থেকে রক্ষা পেতে গাড়িচালক কৌশলে পালিয়ে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বাকি চারজন ছাড়া পায়।
বুধবার (৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর শহরের কারবালা মসজিদের পশ্চিমপাশে এই ঘটনা ঘটে। ওই পাঁচজন হলেন, ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন, লাইনম্যান জালাল ফকির ও গাড়িচালক জিয়াউর রহমানকে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার (৭ মে) দুপুরের পরে রাস্তার বিদ্যুতের মেইন লাইনের সমস্যার কারণে এলাকার অনেক বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমার তিন তলা বাড়ি এবং একটি দোকানে তিনটি লাইন। সেই লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে লাইনম্যান জালাল ফকিরকে ২৫০০ টাকা দেই। টাকা নিয়ে লাইন না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। সংযোগ দেওয়ার জন্য আরও টাকা চায়। এভাবে ২০-২২ জনের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার করে টাকা নিয়েছে। পরে স্থানীয়রা সংঘবদ্ধভাবে চাপ দিলে তারা লাইন দিতে বাধ্য হয়। তবে যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের এখনও সংযোগ দেওয়া হয়নি। সেই কারণে লোকজন তাদের আটক করে রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল, খোকন, তরিকুল ইসলাম, রোকন ব্যাপারীসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমরা সবাই টাকা দিয়েছি। আমাদের কাছ থেকে প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা নিয়েছে জালাল ফকির। তবুও আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাইনম্যান জালাল ফকির বলেন, ‘লোকজনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছি এটা ঠিক না। নজরুল ইসলাম নামে একজনের কাছ থেকে ২৫০০ টাকা নিয়েছি। লাইন দিলে কেউ খুশি হয়ে ২০০-৫০০ টাকা দেয়, এটা তো কাজ করে নেই। সব মিলিয়ে ৪-৫ হাজার টাকা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ডিশ লাইনের কারণে ওখানে ১১টা লাইন বিচ্ছিন্ন ছিল। মঙ্গলবার রাতে ৮টি লাইনে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তিন লাইনের সংযোগ নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়।’
লাইনম্যান জালাল ফকিরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি গরিব মানুষ, নিউজ করার দরকার নেই। নিউজ হলে তার চাকরি চলে যেতে পারে।’
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার এসআই ইকবাল মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, তাদের আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়।







