যশোরে দুই পক্ষের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। পুলিশ এ ঘটনায় নিহত ডাকাত সদস্যের ১১ সহযোগীকে আটকের দাবি জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তি আবুল কাশেম যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শোলাপুর গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার জানান, সোমবার (১৩ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যশোর-মাগুরা সড়কের নোঙরপুর মাজার এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করছিল একদল ডাকাত। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাত দল পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত হিসেবে আবুল কাশেমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শ্যুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও তিনটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।
তবে ঘটনার পর যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুবুর রহমান বলেছিলেন, ‘গভীররাতে পুলিশ খবর পায় যশোর-মাগুরা সড়কের নোঙরপুর এলাকায় মাজারের পাশে দু’দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলি চলছে। খবর পেয়ে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলা দেখতে পাই। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. শফিউল্লাহ সবুজ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক দলের অভিযানে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মণিরামপুর উপজেলার ইত্যা মাঠপাড়ার সাইফুল ইসলাম (৩১), শাহিনুর (৩৫), শহিদুল গাজি (৩৫) ধনিরাম দাস (৪০), আসলাম বিশ্বাস (২৯), আলম হোসেন ওরফে ইমরান (২২) মিজানুর রহমান মিন্টু (৪০), আজিবর গাজী (৪৮), বাবর আলী শেখ ওরফে বাবু (৩৬) ও ওহিদুজ্জামান বাবুসহ (৩২) ও মিজানুর গাজী ওরফে কামরুলকে (৩৬) আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার জানান, আটক ব্যক্তিরা যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে যশোরের বিভিন্নস্থানে ডাকাতি করে আসছিল। আটক ১১ ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তবে নিহত কাশেমের বিরুদ্ধে কোনও ডাকাতির মামলা নেই। যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা এবং কেশবপুর থানার একটি ডাকাতি মামলার (এফআইআর নম্বর-১২, ২০মার্চ/২০১৩; জিআর নম্বর-৪৫/১৩) সন্দেহভাজন আসামি।







