চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) শ্রমিকদের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। একজন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা নিয়ে শনিবার (১৫ জুন) সকালে শহরের দৌলতদিয়াড় এলাকায় বিএডিসির প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে আট জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দু’জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিক ডাবলুকে বিএডিসি থেকে চাকরিচ্যুত করা নিয়ে শ্রমিকদের সর্দার আরিফ ও ডাবলুর মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শনিবার সকালে বিএডিসির প্রধান ফটকের সামনে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন—শ্রমিক আনারুল, তারিক, ফারুক, রাকিব, কাদের ও ইয়াসিন। এছাড়া, আরিফ ও ডাবলুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আওলিয়ার রহমান জানান, আট জনের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়েছে। এদের মধ্যে মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় আরিফ ও ডাবলুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত আরিফ বলেন, ‘কাজে ফাঁকি দেওয়ায় কয়েকদিন আগে ডাবলুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এ ছাড়া কাজ না করে সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় বহিরাগতদের নিয়ে ডাবলু আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
ডাবলু এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শ্রমিকদের জিম্মি করে রেখেছে আরিফ। এসবের প্রতিবাদ করায় আমাকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করেছে সে।’ এ নিয়ে কথা বলতে গেলে আরিফ ও তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেছে।’
চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির উপ-পরিচালক শামিমুর রহমান জানান, শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তাদের কাছে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, সংঘর্ষের পর বিএডিসিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।







