১০০ দিনে ঘরে তোলা যায় খরা সহিষ্ণু ধান বিনা-১৯

মাজহারুল হক লিপু, মাগুরা
২১ জুলাই ২০১৯, ২০:৩৩আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ২১:০৯

বিনা-১৯ ধানের আবাদ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কেন্দ্র উদ্ভাবিত খরা সহিষ্ণু আউশ ধান বিনা-১৯ চাষ নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।

মাগুরা বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুশান চৌহান জানান, এ বছর তারা মাগুরায় ২০ একর জমি বিনা-১৯ আউশ ধান চাষের আওতায় এনেছেন। যা থেকে ৩৫.৫০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জাতের ধানের সুবিধা হলো এটি খরা সহিষ্ণু ফসল। এটির চাষে প্রতি একর জমিতে ৪.৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। অন্যান্য ধান যেমন ঘরে উঠতে সময় লাগে সর্বনিম্ন ১০০ থেকে ১২০ দিন, সেখানে বিনা-১৯ মাত্র ৯৫ থেকে ১০০ দিনেই ঘরে তোলা যায়। এ জাতের ধানের চালও সরু এবং সুস্বাদু হয়।

এই ধানের উদ্ভাবক ড. আবুল কালাম আজাদ। 
মাগুরা বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুশান চৌহান আরও জানান, বিনা-১৯ ধান খরাপ্রবণ এলাকায় চাষ করা যাবে। পানি জমে থাকে কিংবা বেশি বৃষ্টিপাত প্রবণ এলাকায় এর চাষাবাদ ভালো হয় না। কৃষক চাইলে আবাদ করা ধান থেকে বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন। সেই বীজ বপন করেই ধানের চারা গজানো যাবে।

সদর উপজেলার কৃষক রইস শেখ বলেন, ‘আমি দেড় বিঘা জমিতে বিনা-১৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ইতোমধ্যে তা ঘরেও তুলেছি। আমার উৎপাদনও বেশ ভালো হয়েছে। আমার সঙ্গে যারা সাধারণ জাতের ধান আবাদ করেছেন, তাদের ধান ঘরে উঠতে আরও একমাস সময় লাগবে।’

সদর উপজেলা রাঘবদাইড় ইউনিয়নের কৃষক গোলাম মাওলা জানান, আমি এ বছর এক বিঘা জমিতে বিনা-১৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ইতোমধ্যে আমি ধান ঘরেও তুলেছি। সবচেয়ে সুখের খবর হলো, আমি খুব চিন্তায় ছিলাম এবার যে অতিরিক্ত খরা দেখা দিয়েছে তা নিয়ে। কিন্তু, আমাকে পরে তা নিয়ে আর ভাবতে হয়নি। মাত্র একবার সেচ দিয়েই আমি ফসল ঘরে তুলেছি। যারা সাধারণ জাতের আউশ ধান চাষ করেছেন, তারা এ নিয়ে খুবই চিন্তিত। কারণ মাগুরায় এবার অত্যধিক খরায় তাদেরকে বারবার জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে।

মাগুরা নতুন বাজারের ধান ব্যবসায়ী অরূপ সাহা বলেন, ‘আমরা বিনা-১৯ আউশ ধান একটু বেশি দামেই কিনছি। কারণ এর চালটি বেশ সরু এবং সুস্বাদু।’         

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, আমরা বিনা-১৯ আউশ ধান উৎপাদনে দারুণ সাফল্য পেয়েছি। কৃষক এর প্রতি বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। আশা করি, আগামী বছর থেকে এর উৎপাদন বাড়তে থাকবে।

মাগুরার প্রকৃতি বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা পল্লী-প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমার পিন্টু বলেন, ‘বিনা-১৯ জাতের ধান খুবই প্রকৃতিবান্ধব। দিনে-দিনে আবহাওয়ার উষ্ণতা বৃদ্ধি আমাদেরকে শঙ্কিত করে তুলছে। সেই সময় খরা সহিষ্ণু বিনা-১৯ এর উদ্ভাবন সত্যিই প্রকৃতির জন্য একটা সুসংবাদ। এটি একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাচ্ছে। অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানিকেও সাশ্রয় করছে।’

/এনআই/
সম্পর্কিত
এবার স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ফেসবুকে ভিডিও, গ্রেফতার ৫
কারাগার থেকে বের হওয়া মাত্রই আবার গ্রেফতার আ.লীগ নেত্রী
যেসব জেলায় চলছে খাল খনন, অগ্রগতি ও ব্যয় কত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম