খুলনার দু’টি হিমায়িত চিংড়ি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো মডার্ন সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ব্রাইট সি ফুড লিমিটেড। বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখার সিল-সই, সোনালী ব্যাংকের পে-অর্ডার, স্বাস্থ্য সনদ, অতিরিক্ত সনদ, সনদের আবেদন ও মূল্য সংযোজন কর জাল করা হয়; যা উৎঘাটন করেছে খুলনার মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। তদন্ত রিপোর্টে এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রীতিষ কুমার মল্লিক জানান, রফতানির আগে ওই লটের চিংড়ি তারা পরীক্ষা করে সনদ দেন। এই সনদ নিতে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব পে অর্ডার/ড্রাফট করে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি সনদ নিতে খুলনার মডার্ন সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ব্রাইট সি ফুড লিমিটেডের দাখিল করা কাগজপত্রে সন্দেহ হয়। ফলে মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা লিপটন সরদারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এ বছরের ২৬ মে ও ১৩ জুন দুটি প্রতিবেদন দেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মডার্ন সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ব্রাইট সি ফুড লিমিটেডের দুটি কারখানার টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখা এবং সোনালী ব্যাংক বয়রা শাখার ৪২টি চালানের কাগজপত্র যাচাই করতে সোনালী ব্যাংক বয়রা শাখার ম্যানেজারের কাছে নেওয়া হয়। ম্যানেজার চালানগুলো ভুয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে শনাক্ত করেন। এমনকি চালান জাল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাদানের কোর্ডও সঠিক নয় বলে জানান তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পযর্ন্ত ৪২টি রফতানি চালানের সব কাগজপত্র ও পেঅর্ডার জাল বলে শনাক্ত করে। জালিয়াতির মাধ্যমে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মডার্ন সি ফুড ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং ব্রাইট সি ফুড ২৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫০ টাকা সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করেছে বলে মন্তব্য করা হয়।
এ অবস্থায় তদন্ত কমিটি অতিদ্রুত প্রতিষ্ঠান দুটিকে কারণ দর্শনো নোটিশ, অনাদায়যোগ্য সরকারি মোট ৪৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮৫০ টাকা আদায়ের ব্যবস্থা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
প্রীতিশ কুমার মল্লিক আরও জানান, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল হক জালিয়াতির ঘটনা স্বীকার করে সরকারি রাজস্ব প্রায় ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটিকে করা দুই লাখ করে মোট চার লাখ টাকা জরিমানাও পরিশোধ করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা অফিসকে অবহিত করার জন্য মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে ১১ জুলাই লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। সেই পত্রে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করা হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক বয়রা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন জানান, মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দফতর থেকে তাদের কাছে ব্যাংকের জমা চালান নিয়ে আসা হয়েছিল। তারা সব কাগজপত্র জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু তার ব্যাংকের কোনও অর্থ বা জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে তার ব্যাংকের কেউ জড়িত নয় বলে তারা কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেননি।
মডার্ন সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ব্রাইট সি ফুড লিমিটেডের’র এমডি এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মো. রেজাউল হক বলেন, ‘তার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তৌহিদ মোল্লা এসব করেছে। তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন। তিনি ঝামেলা এড়াতে দাবি করা প্রায় ৪৫ লাখ টাকা এবং জরিমানা চার লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন।







