করোনায় প্রণোদনা এবং একইসঙ্গ পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে মাগুরায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু পাটের বাজার ভালো পাবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। একে একে পাটকল বন্ধ হওয়া এবং পাট ব্যবসায়ীদের বিপুল অর্থ বিজেএমসির কাছে পাওনা থাকায় এ শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাগুরার কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর ৩৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯০ বেল। গত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৬৪০ মি.মি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৫ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে বীজ এবং স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করায় পাটের উৎপাদন আশাব্যঞ্জক। খুব শিগগিরই পাট কাটা শুরু হবে।
শ্রীপুরের রায়নগর এলাকার কৃষক শহীদ মৃধা বলেন, ‘এ বছর আমি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। করোনার কারণে আমরা স্বল্প সুদে ঋণ পেয়েছি। সেইসঙ্গে পরিমাণ মতো বৃষ্টি হওযায় এবার সেচের জন্য আলাদা কোনও খরচ হয়নি। সবমিলে এবারের খরচ এবং উৎপাদন নিয়ে আমি খুশি।’
মোহম্মদপুরের রামদেবপুরের একজন কৃষক বলেন, ‘এ বছর সরকারের সহযোগিতা এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তারপরও আমরা পাটের বাজার নিয়ে শঙ্কিত। একে একে মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেইসঙ্গে বিজেএমসির কাছে পাট ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার বিল বাকি রয়েছে। জানিনা এবার ন্যায্য মূল্য পাবো কিনা।’
মাগুরা শহরের পাট ব্যবসায়ী টিপু সুলতান বলেন, ‘বিজেএমসির কাছে এখনও আমি ১০ কোটি টাকার বিল পাইনি। আমার মতো মাগুরার অনেক ব্যবসায়ীরই বিল বাকি আছে। এই অবস্থায় নতুন করে কেউ পাট কিনবে বলে তো মনে হয় না।’
মাগুরার কৃষি ও প্রকৃতি-বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা পল্লী-প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘একদিকে পাট ব্যবসায়ীদের একটি বিপুল অঙ্কের টাকা বিজেএমসির কাছে আটকে আছে, অন্যদিকে একের পর এক পাটকল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে মাগুরার পাটের বাম্পার ফলনেও কৃষকরা শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী যেমন প্রণোদনা দিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন, একইভাবে কৃষক যেন যথাযথ মূল্য পায় আশা করি সেদিকটাও তিনি দেখবেন।’
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সরকারের প্রণোদনা এবং যথেষ্ট বৃষ্টি হওয়ায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, তবে এটুকু বলতে পারি অন্য বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক কমে গেছে।’








