স্থানীয় জাত হিসেবে সুমিষ্ট গোবিন্দভোগ আমের পর এবার সাতক্ষীরা থেকে ইউরোপে যাচ্ছে হিমসাগর আম। মাটি ও আবহাওয়াজনিত কারণে সাতক্ষীরার আম আগে পেকে যাওয়ায় এবং স্বাদে, গুণে ও মানে অনন্য হওয়ায় এই আমের চাহিদা অনেক।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, প্রথম দিনেই এনএইচবি করপোরেশন ও তাশফিক ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে চার টন হিমসাগর আম ইতালির রোমে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ল্যাংড়া ও আম্রপালি আমও রফতানি হবে।
জানা যায়, গত মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে রফতানি বিঘ্নিত হলেও কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় এবং বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সফল প্রকল্পের সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে ৮ মে থেকে গোবিন্দভোগ পাঠানোর মাধ্যমে বিদেশে আম রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। আর শুক্রবার (২১ মে) থেকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাটির হাফিজুর রহমানের বাগান থেকে হিমসাগর আমের রফতানি শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের ১৪টি কোম্পানির মাধ্যমে সাতক্ষীরার আম বিদেশে রফতানির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০০ মেট্রিক টন আম রফতানি হবে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের বাজারে।
কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার মুম্বাই, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগসহ আগামজাত আম ১ মে, হিমসাগর আম ২১ মে ও ল্যাংড়া আম ১ জুন থেকে হার্ভেস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চেয়ে অন্তত ১৫ দিন আগে হার্ভেস্টিংয়ের সুবিধা থাকায় সাতক্ষীরার আম রফতানিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এদিকে শুক্রবার সকালে হিমসাগর আমের রফতানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। এসময় নিরাপদ আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, জেলা বিপণন কর্মকর্তা সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম, উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম, সফল প্রকল্পের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া’র প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।








