এএসআই সৌমেনের দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানতো না পরিবার

মাগুরা প্রতিনিধি
১৪ জুন ২০২১, ১৮:৩৫আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ০০:৩১
image

কুষ্টিয়ায় স্ত্রী, সৎ ছেলেসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়ের দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানতেন না পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনার আগে তার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ চোখে পড়েনি প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যদের।

সৌমেনের গ্রামের বাড়ি মাগুরার সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আসবা গ্রামে। প্রান্তিক কৃষক পরিবারের সন্তান সৌমেন সম্পর্কে এলাকাবাসী জানান, তার বাবা সুনীল রায় মারা গেছেন অনেক বছর আগে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সৌমেন দ্বিতীয়। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই শান্ত রায় কৃষিকাজ করেন। মা ঝর্ণা বাড়িতে থাকেন।

শান্ত রায় জানান, সৌমেন স্থানীয় বরইচারা অভয়াচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পান। পরে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হন। সৌমেন পারিবারিকভাবে ২০০৫ সালে শালিখা উপজেলার ধাওয়াসীমা গ্রামের কাশিনাথ বিশ্বাসের মেয়েকে বিয়ে করেন। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে খুলনায় থাকেন সৌমেন। ভাইয়ের পাঠানো টাকায় তাদের সংসার চলতো।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর বিষয়টি আমরা খবরে দেখেই প্রথম জেনেছি। এমনকি বিষয়টি তার প্রথম স্ত্রীকেও জানাননি। আমরা সবাই প্রথম জানলাম দ্বিতীয় বিয়ের কথা। আমাদের ধারণা কুষ্টিয়ায় কর্মরত অবস্থায় হয়তো আসমার (দ্বিতীয় স্ত্রী) সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান সৌমেন।

সৌমেনের গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, টিনের ছোট্ট একটি ঘরে মা ও পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন। ঘরের দেয়ালে সৌমেনের একটা বড় ছবি টাঙানো রয়েছে। বাড়িজুড়ে সুনসান নীরবতা। কেউই কথা বলতে চাননি। তারা ভেবেই পাচ্ছেন না সৌমেন কীভাবে এমন ঘটনা ঘটালেন।

সৌমেনের বাল্যবন্ধু প্রতিবেশী নারায়ণ বর ও সুদর্শন বিশ্বাস জানান, সৌমেনের সঙ্গে তারা প্রাইমারি ও হাইস্কুলে পড়েছেন। অন্য সহপাঠীদের তুলনায় শান্ত ছিলেন। চাকরি পাওয়ার পর তেমন বাড়িতে যেতেন না। দুই বছর পর একবার বাড়ি এলে কারও সঙ্গে তেমন দেখা হতো না।

সৌমেনের শ্বশুর কাশিনাথ বিশ্বাস জানান, ২০০৫ সালে তার মেয়ের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সৌমেনের বিয়ে হয়। সেই পরিবারে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছেলে রয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে সুখের সংসার ছিলো সৌমেনের। দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে কিছুই জানা ছিলো না তাদের।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কাস্টমস মোড়ে তিনতলা একটি ভবনের সামনে আসমা তার সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পাশে প্রতিবেশী যুবক শাকিলও ছিলেন। হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হয়ে সৌমেন রায় প্রথমে আসমার মাথায় গুলি করেন। এরপর শাকিলের মাথায় গুলি চালান।

ভয়ে শিশু রবিন দৌড়ে পালাতে গেলে তাকেও ধরে মাথায় গুলি করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন তাকে ধরতে গেলে দৌড়ে তিনতলা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ওই ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে দেন।

এ ঘটনায় নিহত শাকিল খানের বাবা মেজবার রহমান বাদী হয়ে রবিবার রাতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সৌমেন রায়কে একমাত্র আসামি করা হয়। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরই মধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

/এফআর/
সম্পর্কিত
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে