কাশি বাঁশি আর ঝাঝরের সুরে, ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের তালে রূপসা নদীতে দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি আনন্দ আর উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। বাইচ চলাকালীন বাইচ দল ‘সোনার বাংলা’র নৌকাটি রূপসা নদীতে ডুবে গেলে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে প্রতিযোগিতায় সেরা হয় সুন্দরবন টাইগার।
উৎসবমূখর নৌকা বাইচ দেখতে রূপসার দু’ তীরে হাজার হাজার দর্শনার্থী জড়ো হয়। তারা তীরবর্তী ভবনের ছাদ, বিভিন্ন ঘাট এবং নৌযানের ওপর বসে বাইচ উপভোগ করেন। এ সময় বাইচ নির্বিঘ্ন করতে নদীতে জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দেন।
শনিবার দুপুর সোয়া ২টায় রূপসা নদীর নং কাস্টম ঘাট থেকে পীর খানজাহান আলী (র.) সেতু পর্যন্ত বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার দিঘলিয়া, কয়রা, নড়াইল, মাগুরা ও গোপালগঞ্জের ১২টি দল অংশ নেয় এ বাইচে। বাইচ চলাকালীন দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে দিঘলিয়ার ‘সোনার বাংলা’ নামক নৌকাটি নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটির মালিক ফুলতলার আক্কাস আলী। তবে, দ্রুত মাঝি-মাল্লাদের উদ্ধার করায় হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
নৌকা বাইচে বড় গ্রুপে প্রথম পুরস্কার লাভ করে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুরের ‘সুন্দরবন টাইগার’ নৌকা, দ্বিতীয় মাগুরার মাগুরা টাইগার নৌকা এবং তৃতীয় তেরখাদার ভাই ভাই জলপরী নৌকা। ছোট গ্রুপে প্রথম রিয়া নৌকা বাইচ দল, দ্বিতীয় কপোতাক্ষ তুফান ও তৃতীয় কপোতাক্ষ পঙ্খিরাজ।
বাইচ শেষে বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জকারী দলকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার ছিল ১ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৬০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা।
সকাল ৯টায় শিবাবাড়ী মোড় হতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের ধারণ করা প্রাকৃতিক দৃশ্যভরা বর্ণাঢ্য র্যালি হয়। র্যালির উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন। দুপুর ১টায় নগরীর ১ নং কাষ্টমঘাটে বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পুরষ্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার।
এ সব অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি মোল্লা মারুফ রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান রহিম। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড খ মহিদ উদ্দিন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এস এম ফজলুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রাকিবুল ইসলাম, খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মাহবুব হাসান প্রমুখ।








