X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

সাতক্ষীরায় তীব্র শীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, দুর্বিষহ জনজীবন

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:২২

সাতক্ষীরায় তীব্র শীতের মধ্যে শনিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। এতে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। অসহায় খেটে খাওয়া মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

এদিকে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নেওয়া ভূমিহীন পরিবারগুলোতে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে হাজির হয়েছে তীব্র শীতের সঙ্গে এ বৃষ্টি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অসময়ের বৃষ্টিতে ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ‘পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে জেলাজুড়ে সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাত্র দুই মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামীকাল রবিবারও সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ মাসের শেষ দিকে জেঁকে বসতে পারে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। চলতি মাসে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামতে পারে। ডিসেম্বরের ২০ তারিখে জেলায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী জেলার আকাশ শনিবার ভোর থেকেই মেঘলা ছিল। মধ্যরাত থেকেই হালকা প্রবল কুয়াশা দেখা দেয়।’

এদিকে, বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন বাইরে কাজে বের হওয়া মানুষরা। শীতের বৃষ্টিতে অপ্রস্তুত থাকায় চরম বিড়ম্বনার পাশাপাশি শীত বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। গত রাতে তাপমাত্রা বাড়লেও সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির আকাশ মেঘাচ্ছন্ন আছে। বাড়ির বাইরে মানুষের উপস্থিতিও বেশ কম। জরুরি প্রয়োজনে ছাতা মাথায় অনেককে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।

সাতক্ষীরা পৌর এলাকার কাটিয়া এলাকার ভ্যানচালক আবু মুছা বলেন, ‘সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ার কারণে শীত বেড়েছে। ভ্যান নিয়ে বের হতে পারেনি, রোজগার করতে পারিনি।’

পৌরসভার রাজার বাগান এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে বিগত বছরগুলোতে বর্ষাকালেও সে পরিমাণ বৃষ্টি হয় না। সে পানি আজও কমেনি। বিলের থেকে নদী উঁচু। সে কারণে পানি টানছে না। সূর্যের আলোয় যেটুকু কমছে, এ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। বেতনা নদী না কাটা পর্যন্ত আমাদের কষ্ট লাঘব হবে না। রাজার বাগান বিল এবং সুডুর ডাঙ্গী বিলের ৮০০ বিঘা জমি জলাবদ্ধ হওয়ার কারণে ধান রোপণ করা যাচ্ছে না। ধান চাষের ওপর আমাদের সবকিছু।’

জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যে সময় বৃষ্টি দরকার সে সময় বৃষ্টি হচ্ছে না। অসময়ে বৃষ্টিপাত অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তন কারণে হচ্ছে। আজ বৃষ্টি কম হলেও শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ফলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। গত মাসের বৃষ্টির পানি অনেক এলাকা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। আবার এই বৃষ্টিতে ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে।’

/এফআর/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
দুপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগ করে সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী
দুপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগ করে সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী
‘বাংলাদেশ টাইগার্স’ বদলে দিয়েছে নাঈমকে
‘বাংলাদেশ টাইগার্স’ বদলে দিয়েছে নাঈমকে
নকল আইসক্রিম তৈরির কারখানা সিলগালা, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
নকল আইসক্রিম তৈরির কারখানা সিলগালা, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ডলারের প্রকৃত মূল্য এখন কত?
ডলারের প্রকৃত মূল্য এখন কত?
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
হাত-মুখ বেঁধে ২ বোনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
হাত-মুখ বেঁধে ২ বোনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
দুই বোনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেফতার ৩
দুই বোনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেফতার ৩
ছেলে হত্যার অভিযোগে বাবা আটক
ছেলে হত্যার অভিযোগে বাবা আটক
৪ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, উঠতে হয় মই দিয়ে
৪ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, উঠতে হয় মই দিয়ে
২০ কৃষকের ধান কেটে দিলো এক স্কুলের ৩১৫ শিক্ষার্থী
২০ কৃষকের ধান কেটে দিলো এক স্কুলের ৩১৫ শিক্ষার্থী