X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

ছয় মাসে বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৫০৯ কোটি টাকা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৩৭

যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউজে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৫০৯ কোটি টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা, সেখানে আদায় হয়েছে এক হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের চেয়ে ১০১ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ওই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পণ্য আমদানি হয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪ মেট্রিক টন। রফতানি হয়েছে দুই লাখ ৭৬ হাজার তিন মেট্রিক টন। গত বছরের চেয়ে আমদানি কিছুটা কমলেও রফতানির পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি হয়েছিল ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২ মেট্রিক টন এবং রফতানি হয়েছিল এক লাখ ৭৬ হাজার ২৯৬ মেট্রিক টন।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আমদানি পণ্য থেকে ছয় হাজার ২৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় হাজার ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছিল চার হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। বছরটিতে রাজস্ব আয়ের গ্রোথ অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি হলেও ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৫৭ কোটি টাকা।

এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ১১৪৫ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

এদিকে, চলতি বছরে এত বড় অংকের লক্ষ্যমাত্রা আদায় নিয়ে সংশয় রয়েছে সব মহলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাস্টমস ও বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। তা না হলে কখনও এত বড় অংকের রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এই পথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় ব্যবসায়ীরা চাহিদা মতো পণ্য আমদানি করতে পারেন না। এতেই বারবার রাজস্ব আয়ে ধস নামছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, চলতি অর্থবছরে এত বড় অংকের রাজস্ব আদায় কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ একদিকে করোনা পরিস্থিতি ও অন্যদিকে সুষ্ঠুভাবে বাণিজ্য সম্পাদনে অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেকবার বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করেছেন। আবার ভারতের কালিতলায় অবৈধভাবে পার্কিংয়ের নামে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হয়। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় ব্যবসায়ীদের। যে কারণে অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ছেড়ে চলে গেছেন। তবে বেনাপোল বন্দরের উন্নয়ন ও ভারতে হয়রানি বন্ধ হলে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ রাজস্ব আয় করা সম্ভব। 

বন্দরের আমদানিকারক রাজু আহম্মেদ বলেন, ভারতের কালিতলায় অবৈধভাবে পার্কিংয়ের নামে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হয়। একটি ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে দেশে প্রবেশ করতে সময় লেগে যাচ্ছে প্রায় এক মাস। একে তো পণ্য আসতে দেরি হচ্ছে, আবার ওপারে প্রতিদিন ট্রাক প্রতি দুই হাজার রুপি ডেমারেজ দিতে হয়। এতে বেনাপোল দিয়ে আমদানি কমিয়ে অন্য বন্দরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক না। আমদানিকারকদের নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে বন্দরে পণ্য পাহারা দিতে হয়। বন্দর থেকে পণ্য চুরি, বারবার রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবসা বন্ধ করেছেন। এসব কারণে টানা ৮-৯ বছর ধরে আমদানি পণ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চাহিদামতো রাজস্ব আহরণ করতে পারছে না।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন বলেন, বড় অংকের রাজস্ব আদায় অনিশ্চিত। কারণ নানা অব্যবস্থাপনায় আমদানি কমেছে বন্দর দিয়ে। বেনাপোল কাস্টমসে আমদানি পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেই। এতে খুলনা ও ঢাকা থেকে পরীক্ষা করাতে মাসের অধিক সময় লেগে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় পণ্য চালান আটকা পড়ে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বিএসটিআই ও বিএসআইআরের শাখা স্থাপনের দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে অনেক ব্যবসায়ী বন্দর ছেড়েছেন।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, বেনাপোল বৃহৎ বন্দর হলেও এর কোনও সুফল আমরা পাচ্ছি না। সপ্তাহে সাত দিন বাণিজ্যসেবা চালু থাকলেও সেটি কাগজে-কলমে। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বৈধ সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বন্দরের ধারণক্ষমতা ৫০ হাজার টন। কিন্তু এখানে সবসময় পণ্য থাকে কমপক্ষে দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পণ্যগারের জন্য জমি অধিগ্রহণ, নতুন পণ্যগার নির্মাণ ও বন্দর এলাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরের আরও জমি অধিগ্রহণ ও পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এসব উন্নয়নকাজ সমাপ্ত হলে বন্দরের বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান জানান, ভারতের কালিতলায় অবৈধভাবে আমদানিবাহী গাড়ি আটকিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। আবার আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেনাপোল বন্দরে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ হচ্ছে না। এতে কয়েক বছর ধরে  রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারপরও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আমরা গত বছরের চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করেছি।

/এএম/ /এসএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
র‌্যাব অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক রনি
র‌্যাব অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক রনি
আমিরাতে ঈদুল আজহা ৯ জুলাই?
আমিরাতে ঈদুল আজহা ৯ জুলাই?
গাজীপুরে দুই কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, ১০ শ্রমিক আহত
গাজীপুরে দুই কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, ১০ শ্রমিক আহত
কৃষিতে ডাচ প্রযুক্তি চায় বেসরকারি খাত
কৃষিতে ডাচ প্রযুক্তি চায় বেসরকারি খাত
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
স্কুলছাত্র হত্যায় ১৭ কিশোরের সাত বছর ‘কারাদণ্ড’
স্কুলছাত্র হত্যায় ১৭ কিশোরের সাত বছর ‘কারাদণ্ড’
থানা হাজতে নারীকে ধর্ষণ, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক কারাগারে
থানা হাজতে নারীকে ধর্ষণ, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক কারাগারে
আম কুড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরী
আম কুড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরী
নদীতে নৌকায় খাচ্ছিলেন মাঝি, কার্গোর ধাক্কায় গেলো প্রাণ
নদীতে নৌকায় খাচ্ছিলেন মাঝি, কার্গোর ধাক্কায় গেলো প্রাণ
মাদকবিরোধী অভিযানের খবর শুনে পালাতে গিয়ে সাবেক চেয়ারম্যানের মৃত্যু
মাদকবিরোধী অভিযানের খবর শুনে পালাতে গিয়ে সাবেক চেয়ারম্যানের মৃত্যু